


নয়াদিল্লি: দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টেস্ট সিরিজে ভারতের শোচনীয় পরাজয়ে কাঠগড়ায় গৌতম গম্ভীর। সমালোচনার ঝড় বইছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আক্রমণ শানাচ্ছেন প্রাক্তনরা। জোরালো হচ্ছে কোচকে বরখাস্ত করার দাবি। এমন গুরুগম্ভীর আবহে ‘গোতি’র হয়ে ব্যাট ধরতে এগিয়ে এলেন সুনীল গাভাসকর ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। দুই প্রাক্তন তারকারই এক সুর, মাঠে খেলোয়াড়রা পারফরর্ম করতে না পারলে কোচ কী করবেন?
রাহুল দ্রাবিড়ের হাত থেকে গম্ভীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সাফল্য পেলেও, টেস্টে বারবার মুখ পুড়েছে টিম ইন্ডিয়ার। দেশের মাটিতে প্রথমবার নিউজিল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা (৩-০) হজমের পর অস্ট্রেলিয়া সফরে ১-৩ ব্যবধানে হেরে হাতছাড়া হয়েছে বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি। আর এবার ঘরের মাঠে বৃহত্তম ব্যবধানে হারের কালি ছিটিয়ে চুনকামের প্রলেপ দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কোচের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তো উঠবেই! গাভাসকর, অশ্বিন অবশ্য গম্ভীরের কোনও দায় দেখছেন না! কিংবদন্তি সানির ব্যাখ্যা, ‘কোচ একটা টিম গড়তে পারে, তাদের প্রস্তুত করতে পারে। মাঠে নেমে পারফরম্যান্স করতে হবে খেলোয়াড়দের। এটা বোধহয় অনেকে ভুলে গিয়ে কোচেরই মুণ্ডপাত করছেন। ছেঁটে ফেলার দাবি তুলছেন। আরে বাবা, গম্ভীরের অধীনেই তো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও এশিয়া কাপ জিতেছে। তখন তো কেউ বলেনি যে, ওর চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হোক!’
অশ্বিন আবার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বলেছেন, ‘একটা দল পরিচালনা করা সহজ কাজ নয়। তাছাড়া প্লেয়াররা খেলতে না পারলে, কোচই বা কী করবেন? তিনি তো আর ব্যাট হাতে মাঠে নেমে পড়তে পারবেন না। আসলে বাইরে থেকে লম্বা-চওড়া কথা বলা সহজ, কিন্তু পরিস্থিতির ভিতরে ঢুকে যথার্থ পর্যালোচনা করার ক্ষমতা সবার নেই।’ সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘আমি কারও হয়ে সওয়াল করছি না। যা সত্যি সেটাই বলছি। এই সিরিজে বেশকিছু গলদ আমারও চোখে পড়েছে। কিন্তু মানুষ মাত্রেই ভুল হয়। তার জন্য তড়িঘড়ি কাউকে কোচের পদ থেকে সরিয়া দেওয়া ঠিক নয়।’
সানি ও অ্যাশের কাছে রক্তাক্ত-হৃদয় সমর্থকদের বিনীত জিজ্ঞাসা— দল গঠন ও পিচের চরিত্র নির্ধারণে আর কত গোঁয়ার্তুমি করলে পরে ভুলের ঘড়া পূর্ণ হয়!