


অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: রাজ্যের গরিব তরুণীদের বিবাহে আর্থিক সহায়তার জন্য ‘রূপশ্রী’ প্রকল্প চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রকল্পে অনিয়ম এবং হয়রানি রুখতে এবার বিশেষ পদক্ষেপ নিল নবান্ন। অ্যাকাউন্ট খতিয়ে না দেখে আর টাকা নয়। আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যাচাই করার পরই মিলবে টাকা। ১ এপ্রিল থেকে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিবিধ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যাচাই করতে বলেছিল অর্থদপ্তর। রূপশ্রীর ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকাকে বিশেষ গুরুত্বসহকারে মানা হচ্ছে। জানাচ্ছে প্রশাসনিক মহল।
রূপশ্রী চালু হয়েছে ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল। এই প্রকল্পে এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। আবেদনকারীর পারিবারিক বার্ষিক আয় হতে হবে দেড় লক্ষ টাকার মধ্যে। এতদিন আবেদন জমা পড়ার পর তা পোর্টালে আপলোড করা হতো। তারপর স্যাংশন অফিসারের (এসও) কাছ থেকে তা যেত তদন্ত কমিটির কাছে। আবেদনকারীর আর্থিক সামর্থ্য সরজমিনে তদন্ত করে দেখা হতো। সেই রিপোর্ট জমা পড়ার পরই আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা ঢুকত। এতে দু’ধরনের সমস্যা ছিল। প্রথমত, কেউ যদি অন্যের অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে দিত, তাহলে সেই নম্বরেই টাকা যেত। তার থেকে অনিয়মের একটা সম্ভাবনা ছিল। আবার কারও অ্যাকাউন্ট ‘নিষ্ক্রিয়’ কিংবা অন্যকোনও ভুল থাকলেও টাকা ঢুকত না।
মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি এবং বীরভূমের নলহাটি-২ ব্লকে রূপশ্রীর টাকা নিয়ে কিছু অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। আবেদনকারীর বদলে অন্যের অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়া হয়েছিল। এমনকী, নদীয়ার কালীগঞ্জে এক তরুণীর একাধিক অ্যাকাউন্টে একাধিকবার টাকা ঢুকেছিল! এছাড়া বিধাননগরের এক তরুণী অ্যাকাউন্ট নম্বরের বদলে ভুল করে তাঁর কাস্টমার আইডি লিখেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে আবেদন জানিয়ে অবশ্য সেই অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধন হয়ে যায়। বিয়ের পর হলেও তিনি ওই টাকা পেয়ে যান।
নয়া নিয়মে এবার থেকে তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়ারই আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। টাকা দেওয়ার আগে স্যাংশন অফিসার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের জন্য পাঠাবেন। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ দেখবেন, আবেদনকারীর নামেই ওই অ্যাকাউন্টটি চালু রয়েছে কি না। ওই ব্যাঙ্ক রিপোর্ট আসার পরই টাকা ছাড়া হবে। ফলে, অন্যের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাওয়া, ভুল অ্যাকাউন্ট নম্বর লেখা কিংবা অন্যকোনও সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা আর থাকবে না।