নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংসদ থেকে সড়ক, সুযোগ পেলেই প্রচার তো হচ্ছে খুব। ৮০ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে রেশন দিচ্ছে মোদি সরকার। প্রচারের আলোয় থাকার জন্য ‘জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে’র অধিকারে পাওয়া প্রকল্পর নামও বদলে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। মাসে ব্যক্তি প্রতি পাঁচ কিলো চাল-গম পাওয়ার প্রকল্প এখন ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা।’ কিন্তু আদৌ সেই চাল-গম পাচ্ছে তো পিছিয়ে পড়া জেলার গরিবরা? তারা কি এই প্রকল্পের কথা আদৌ জানেন? জানলেও সঠিক পরিমাণ খাদ্যশস্য পান কি? কেন্দ্রীয় সরকার যে খাদ্যশস্য দিচ্ছে, তা ঠিক মতো গুদামে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে কি? রেশন দোকানে প্রকল্পটির প্রচার বোর্ড আছে তো?... ইত্যাদি জানতে এবার সরেজমিনে নজরদারিতে নামছে খাদ্যমন্ত্রক। সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব, ডেপুটি সেক্রেটারি, জয়েন্ট সেক্রেটারি, আন্ডার সেক্রেটারির মতো মন্ত্রকের হেভিওয়েট পদাধিকারীদের নামানো হচ্ছে মাঠে। তাও আবার কোথায়? মোদির রাজ্য গুজরাত সহ ১১ টি ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যে। যা বেনজির। তামিলনাড়ু, ঝাড়খণ্ড, পাঞ্জাব, তেলেঙ্গানার মতো কয়েকটি রাজ্যের সামান্য কয়েকটি পিছিয়ে পড়া জেলার নাম এই সফরসূচিতে রয়েছে ঠিকই। তবে ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলির জেলার সংখ্যাই তালিকায় সবচেয়ে বেশি।
নীতি আয়োগ ২০১৮ সালে গোটা দেশে ১১২ টি জেলাকে অ্যাসপিরেশনাল ডিস্ট্রিক্ট বা সম্ভাবনাময় জেলা চিহ্নিত করে। আগে যেগুলিকে বলা হত, ব্যাকওয়ার্ড ডিস্ট্রিক্টস বা পিছিয়ে পড়া জেলা। এগুলির মধ্যে গুজরাতের নর্মদা, দোহাদ, উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুর, বাহরিচের মতো চার, অসমের বাকসা, বরপেটা, হাইলাকান্দির মতো সাত, মধ্যপ্রদেশের গুনা, বিদিশা, সিঙ্গারৌলির মতো ছটি সহ বিজেপি-এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলির ৫১ জেলায় পরিদর্শনে যাচ্ছে খাদ্যমন্ত্রকের ৬৩ টি টিম। তালিকায় রয়েছে, বিহার, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, হরিয়ানা, ত্রিপুরার মতো ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যও।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সরকারের এই উদ্যোগেই স্পষ্ট, পিছিয়ে পড়া জেলায় উন্নতি হয়নি। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির উল্লেখিত জেলাতে সরকারি সুবিধার স্বচ্ছতা নেই। সেই কারণেই প্রায় তদন্তে নামতে হচ্ছে উচ্চ পদাধিকারীদের। নয়াদিল্লির কৃষি ভবন ছেড়ে যেতে হচ্ছে পিছিয়ে পড়ার জেলায় রেশন প্রকল্প সঠিক রূপায়ন দেখতে। এ ব্যাপারে ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনে’র সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বলেন, ‘বহু জায়গাতেই ঠিক মতো ইন্টারনেট কাজ করে না। সার্ভার ডাউন থাকে অধিকাংশ সময়ে। যার জেরে রেশন বিতরণে সমস্যা হয়। অথচ তার দোষারোপের দায় নিতে হয় দোকানদারদের। কেন্দ্রীয় টিম যেন সঠিক রিপোর্ট নেয়।’
খাদ্যমন্ত্রকের ৬৩ টিম ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলির ৫১টি পিছিয়ে পড়া জেলায় গিয়ে গণবণ্টন ব্যবস্থার সঠিক রূপায়নের রিপোর্ট নেবে। চাল-গমের মান কীরকম? মানুষ সন্তুষ্ট কিনা ইত্যাদি। মোট ২০টি প্রশ্ন সামনে রেখে খোঁজ নেওয়া হবে পিছিয়ে পড়া জেলার রেশনের হালহকিকৎ।