


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায়কে সিপিএমের সমর্থনের প্রকাশ্য বিরোধিতা করে ২০১২ সালের জুন মাসে পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন প্রসেনজিৎ বসু। জেএনইউয়ের প্রাক্তনী ও অর্থনীতিতে পিএইচডি প্রসেনজিৎবাবু তখন দিল্লিতে পার্টির কেন্দ্রীয় রিসার্চ ইউনিটের আহ্বায়ক পদে ছিলেন। সোমবার উত্তর কলকাতার একটি সভাঘরে সেই কংগ্রেসের পতাকাই হাতে নিলেন তিনি। প্রাক্তন সিপিএম নেতার কংগ্রেসে যোগদানের এই অনুষ্ঠানে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। তাঁদের মধ্যে দুজন কানহাইয়া কুমার এবং সৈয়দ নাসির হুসেনও জেএনইউয়ের প্রাক্তনী। কংগ্রেসের রাজ্যসভা সদস্য এবং দলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য নাসির হোসেন তো একসময় প্রসেনজিৎবাবুর সঙ্গে জেএনইউতে বামপন্থী রাজনীতি করেছেন। জেএনইউ ‘কানেকশন’ যে তাঁদের এই অনুষ্ঠানে আসার অন্যতম কারণ তা জানিয়েছেন, কানহাইয়া কুমার ও নাসির হোসেন। কর্ণাটক থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসের প্রভাবশালী রাজ্যসভার সদস্য স্মৃতিরোমন্থন করে বলেন, কীভাবে প্রসেনজিতের সমর্থনে তিনি জেএনইউয়ের ছাত্র সংগঠনের যুগ্ম-সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে অন্য একটি সূত্রে জানা যায় যে পরবর্তীকালে দুজনের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য হয়। সেটার জন্যই এবিভিপি প্রার্থী ২৫ বছর আগে প্রথমবার জেএনইউয়ের ছাত্র সংসদের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সিপিএম ছাড়ার পর থেকে সংগঠন গড়ে বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ইশ্যুতে আন্দোলন ও আইনি লড়াই চালালেও প্রসেনজিৎবাবু এতদিন কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি। তাঁর কংগ্রেসে যোগদানের পিছনে যে জেএনইউয়ের দুই প্রাক্তনীর ভূমিকা রয়েছে, তা এদিনের সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন কানহাইয়া কুমার। তিনি বলেন, প্রসেনজিৎদাকে নিয়ে আমরা দুজনে আলোচনা করতাম। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধেই যখন আমাদের মূল লড়াই, তাহলে আলাদা কেন চলব, সেটা আমরা বোঝাতে পেরেছি। কংগ্রেসে যোগদানের আগেই সামাজিক মাধ্যমে তাঁর এই সিদ্ধান্তের কারণ জানিয়েছিলেন প্রাক্তন সিপিএম নেতা। তিনি জানান, গত ১৩ বছর ধরে তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন। দেশ ও রাজ্য এখন যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলেছে ভবিষ্যতে তার থেকে মুক্তির জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবারের সভায় তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রিত্বে দেশ ও সংবিধান এখন বিপদের মুখে। এই অবস্থায় রাহুল গান্ধী যে লড়াই চালাচ্ছেন তাতে তিনি শামিল হতে চান।
এদিনের সভায় দুই কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেতা সিএএ, এনআরসি, এসআইআর এবং ভোটচুরির ইশ্যুতে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান। পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গোলাম আমেদ মির বিজেপির পাশাপাশি রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। শুভঙ্করবাবু বলেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে কংগ্রেস ছাড়া কোনও সরকার তৈরি হবে না। প্রসেনজিৎবাবু আগামী সরকারে অর্থমন্ত্রী হবেন কিংবা আরও বড়ো কোনও দায়িত্ব পেতে পারেন। তারই ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।