Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এক লক্ষ মেট্রিক টন ধান কিনল খাদ্যদপ্তর, খরিফ মরশুমে ক্রয়ে ব্যাপক সাড়া

ধান ক্রয় শুরু হওয়ার এক মাসের মধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলায় এক লক্ষ মেট্রিক টন ধান কিনল খাদ্যদপ্তর। খরিফ মরশুমে ধান বিক্রিতে ব্যাপক সাড়া।

এক লক্ষ মেট্রিক টন ধান কিনল খাদ্যদপ্তর, খরিফ মরশুমে ক্রয়ে ব্যাপক সাড়া
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ধান ক্রয় শুরু হওয়ার এক মাসের মধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলায় এক লক্ষ মেট্রিক টন ধান কিনল খাদ্যদপ্তর। খরিফ মরশুমে ধান বিক্রিতে ব্যাপক সাড়া। প্রতিটি ধান ক্রয় কেন্দ্রে উৎসাহী চাষির ভিড়। জেলার ৬০টি সিপিসিতে ধান কেনা চলছে। যার মধ্যে ৪৫টি স্থায়ী সিপিসি ও বাকি ১৫টি মোবাইল। অনলাইনে শিডিউল করে চাষিরা নিজেদের এলাকার কাছাকাছি সিপিসিতে ভিড় জমাচ্ছেন। প্রতিটি স্থায়ী সিপিসিতে দুজন করে পারচেজ অফিসার বসছেন। চাষিদের অনলাইন শিডিউল খতিয়ে রেখে তাদের নিয়ে আসা ধান প্রতিটি ক্যাম্পে ওজন করে নিচ্ছেন তাঁরা। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত মোট এক লক্ষ এক হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। প্রকিওরমেন্ট সেন্টার থেকে ৫৫ হাজার ৮৮২ মেট্রিক টন ধান কিনেছে খাদ্যদপ্তর। ধান কেনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন এজেন্সির কাছ থেকে ৪৫ হাজার ৮৬৭ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। 

Advertisement

প্রতিটি ব্লকে অফিসার ও ধান ক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা বিভিন্ন সংস্থাকে সচেতন করা হয়েছে, যাতে চাষিদের থেকে বেশি ধলতা না নেওয়া হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে। এক একজন চাষি সর্বোচ্চ ৯০ কুইন্টাল ধান বিক্রি করতে পারছে। জমি কম থাকলে ধানের পরিমাণ কিছুটা কমবে। চাষিদের থেকে কেনা ধান সরাসরি রাইস মিল নিয়ে যাবে। রাইস মিল যাতে নির্দিষ্ট সময় ধান তুলে নেয় সেজন্য তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। জেলা প্রশাসনের নির্দেশ মতো রাইস মিলগুলি ধান তুলে নিয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) দীননারায়ণ ঘোষ বলেন, আমরা প্রতিটি প্রক্রিওরমেন্ট সেন্টারে নজরদারি চালাচ্ছি। গোটা জেলায় সুষ্ঠুভাবে ধান ক্রয় চলছে। এখনও পর্যন্ত এক লক্ষ এক হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। কোথাও কোনও চাষিদের কাছ থেকে আমরা অভিযোগ পাইনি। 
খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর মুর্শিদাবাদ জেলায় চাষিদের থেকে সাত লক্ষ মেট্রিক টন ধান কেনা হবে। গতবারের থেকে এবার ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা এক লক্ষ মেট্রিক টন ধান বেশি রাখা হয়েছে। নভেম্বর মাস থেকে রাজ্যজুড়ে ২০২৫-২৬ খরিফ মরশুমের ধান সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে মুর্শিদাবাদ জেলায় নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই ধান বিক্রি শুরু হয়েছে। দু’ সপ্তাহের মধ্যেই এক লক্ষ মেট্রিক টনের বেশি ধান কিনে ফেলায় স্বস্তিতে খাদ্যদপ্তরের আধিকারিকরা। 
জেলার খাদ্য নিয়ামক সৈকত চক্রবর্তী বলেন, প্রতিটি সিপিসিতে নিয়ম মেনেই ধান ক্রয় করা হচ্ছে। আগেভাগেই আমরা ধান কেনার সঙ্গে যুক্ত সরকারি সংস্থাগুলিকে সক্রিয় করেছি। চাষিরা নির্বিঘ্নে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে ধান বিক্রি করতে আসছেন। হরিহরপাড়ার কৃষক মান্ডিতে ধান বিক্রি করতে আসা চাষি শামিম গাজি বলেন, প্রতিবছর আমরা সরকারের কাছে আগে ধান বিক্রি করি। অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে কিছুটা ধান দিলাম। সব ফসল ওঠেনি। পরে আরও কুড়ি কুইন্টাল ধান বিক্রি করব।   বরঞা কিষান মান্ডিতে  সহায়ক মূল্যে ধান কেনা চলছে। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ