Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিহার থেকে ট্রেনে আগ্নেয়াস্ত্র পাচার বাংলায়, উদ্ধার ১০টি ওয়ান শর্টার, অণ্ডাল স্টেশনে এসটিএফের জালে অভিযুক্ত

আর পাঁচটা কর্মব্যস্ত দিনের মতোই বৃহস্পতিবার সকালটা শুরু হয়েছিল অণ্ডাল স্টেশনে। নিত্যযাত্রীদের ভেড়ে সরগরম। বিহারের বাঁকা থেকে জসিডি হয়ে স্টেশনে ঢুকেছে প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি।

বিহার থেকে ট্রেনে আগ্নেয়াস্ত্র পাচার বাংলায়, উদ্ধার ১০টি ওয়ান শর্টার, অণ্ডাল স্টেশনে এসটিএফের জালে অভিযুক্ত
  • ২২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও কলকাতা: আর পাঁচটা কর্মব্যস্ত দিনের মতোই বৃহস্পতিবার সকালটা শুরু হয়েছিল অণ্ডাল স্টেশনে। নিত্যযাত্রীদের ভেড়ে সরগরম। বিহারের বাঁকা থেকে জসিডি হয়ে স্টেশনে ঢুকেছে প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি।  বাঁকা লোকাল নামে যা পরিচিত। ভিড় আরও বেড়ে গিয়েছে। এরই মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা। ব্যাগ নিয়ে ছুটতে থাকা এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করে ধরে ফেললেন কিছু যুবক। ওই ব্যক্তিকে কাবু করে দ্রুত ব্যাগ ছিনিয়ে নিলেন ধাওয়া করে আসা যুবকরা। যাঁরা আসলে সাদা পোশাকে থাকা বেঙ্গল স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) আধিকারিক। ব্যাগ খুলতেই চক্ষু চড়ক গাছ। বেরিয়ে আসতে থাকে একের পর এক আগ্নেয়াস্ত্র। রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে অণ্ডাল স্টেশনে। যে ট্রেনে নিরাপদে এত বছর যাত্রা করেছেন, সেটাই কি এখন অস্ত্র পাচারের মাধ্যম? ভেবেই আতঙ্কিত নিত্যযাত্রীরা। 

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অণ্ডাল স্টেশনে ওঁত পেতে ছিলেন বেঙ্গল এসটিএফের অফিসার-কর্মীরা। অস্ত্র পাচারকারী বাঁকা  লোকাল থেকে নামতেই তাকে চ্যালেঞ্জ করে এসটিএফ। ব্যাগ নিয়ে পালানোর সময় হাতে নাতে ধরে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছেন রাজ্য পুলিসের দুঁদে অফিসাররা। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলি ওয়ান শর্টার। গ্রেপ্তার করা হয়েছে আশরাফুল আনসারি নামে ওই অস্ত্র পাচারকারীকে। অস্ত্র পাচারের কালো কারবারে যাকে সবাই ‘চানা’ নামে চেনে। বাঁকা জেলার শাসনের বাসিন্দা চানা অস্ত্র কারবারিদের কাছে অতি পরিচিত। তাকে গ্রেফতার করার ফলে অস্ত্র পাচারের কালা কারবার অনেকটাই লাগামে টানা যাবে বলে ধারণা পুলিসের। অণ্ডালের এসিপি পিন্টু সাহা বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাজ্য এসটিএফ অণ্ডাল স্টেশনে অভিযান চালিয়েছিল। 
সূত্রের খবর, ১৮-১৯ দিন আগে উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুর থেকে অস্ত্র কারবারি এক যুবককে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। বিহারে মুঙ্গের এবং জামুইয়ের বেআইনি কারখানা থেকে অস্ত্র এনে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করত এই যুবক। তাকে জেরা করে গোয়েন্দারা আশরাফুল আনসারি ওরফে চানার গতিবিধি সম্পর্কে জানতে পারে। জানা যায়, বেআইনি অস্ত্রের একটি বড় ‘কনসাইনমেন্ট’ বিহার থেকে ঝাড়খণ্ড হয়ে ট্রেনপথে অণ্ডালে নিয়ে আসবে চানা। তার মোবাইল নম্বরের হদিশ পান গোয়েন্দারা। ফোন ট্র্যাক করে এসটিএফ জানতে পারে, অণ্ডালগামী ট্রেনে চেপেছে সে। সে খবরের ভিত্তিতেই ওঁত পেতে ছিলেন এসটিএফ অফিসার-কর্মীরা। চানাকে জেরা করে আসানসোলের এক অস্ত্র কারবারির খবর মিলেছে। তাকেই কনসাইনমেন্টটি সরবরাহ করতে আসছিল চানা। 
বিষয়টিকে নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়েছে। বছর ঘুরলে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। বেআইনি অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে ইতিমধ্যেই বাংলার সরকারকে নিশানা করে আসরে নেমেছে বিরোধীরা। সেই আবহে ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য বিহার থেকে একের পর এক অস্ত্রের সম্ভার বাংলায় পাচার করার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা বেশ ‘রহস্যজনক’ বলেই মনে করছে শাসকদল তৃণমূল। লোকাল ট্রেন মারফত অস্ত্র পাচার ও উদ্ধারের বিষয়ে আরপিএফের আসানসোলের ডিভিশনাল সিনিয়র সিকিউরিটি কমিশনার রাহুল রাজকে বারবার ফোন করা হলেও,  তিনি ফোন কেটে দেন।

সম্পর্কিত সংবাদ