


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ‘রিভার্স রবিনহুড।’ মঙ্গলবার বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে এমনই কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের লোকসভার নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্থাৎ গরিবদের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বড়লোকদের সুবিধা দিচ্ছেন বাজেটে। সভায় বসে অভিষেকের অভিযোগ শুনলেন নির্মলা। জানিয়ে দিলেন, জবাবি ভাষণে এর উত্তর দেবেন। বাংলার বঞ্চনা থেকে এসআইআর। বাংলাভাষীদের বাংলাদেশি তকমা, ঘুসপেটিয়ার অভিযোগের মতো ইস্যু তুলে বিজেপি সরকারকে একহাত নেন তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড।’
লোকসভায় ৩৪ মিনিটের বক্তৃতার শেষের দিকে সংসদে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়েন অভিষেক। জানিয়ে দেন, ২০১৬, ’২১ এবং ২৪। পরপর তিন ভোটে বাংলায় হ্যাটট্রিক হার হয়েছে বিজেপির। ছাব্বিশেও চতুর্থবার হারবেন। বাংলাকে যেভাবে বঞ্চনা করা হয়েছে, বাজেটে কিছুই বরাদ্দ হয়নি, মানুষ ভোটে তার উচিত জবাব দেবে। এও শুনিয়ে দেন, বাংলার বকেয়া নিয়ে দাবি মেটাতে অনেকবার দরবার করেছি। কিন্তু কেন্দ্র কথা কানে তোলেনি। রাজ্য থেকে সাড়ে ৬ লক্ষ কোটি ট্যাক্স নিয়ে যায় কেন্দ্র। অথচ মনরেগা, আবাস যোজনা, জল জীবন মিশনের মতো প্রকল্পে বাংলার এক লক্ষ ৯৬ হাজার কোটি টাকা মেটায়নি। অভিষেক বলেন, তবে শুনে রাখুন। বাংলা নতজানু হবে না। মেরুদণ্ড বিক্রি করবে না। যতই রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ হন। কেন্দ্র না দিলেও কী করে স্বনির্ভর হতে হয়, বাংলা তা জানে।
হাতে আর মাত্র তিনদিন সময়। আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যাবে সংসদ। তাই গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বাজেটের ওপর আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। কিন্তু বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভের অনড় অবস্থানে জট কাটছিল না। তবে যেহেতু স্পিকারকে পদচ্যূত করার নোটিস দেওয়া হয়ে গিয়েছে, তাই এদিন সকাল ১১টা এবং বেলা ১২ টায় দুবার লোকসভা মুলতুবি হলেও দুপুর দুটোয় বাজেট আলোচনা আরম্ভ হয়। শুরু করেন কংগ্রেসের শশী থারুর। আজ বুধবার বলবেন রাহুল গান্ধী। আলোচনায় অংশ নিয়ে থারুর যেমন বাজেটকে দিশাহীন বলে তকমা দেন, একইভাবে সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির সমালোচনা করেন উভয়েই। বাজেটে দেশের বর্তমান সমস্যা কাটাতে সলিউশন নয়, ইলিউশন আছে বলেই কটাক্ষ করেন শশী থারুর। বলেন, এটা স্লেগানের সরকার। অখিলেশের তোপ, সরকার মুখে স্বদেশিয়ানা, আত্মনির্ভরতার প্রচার করলেও পরনির্ভরতার দিকেই ঝুঁকছে মোদি সরকার।
চতুর্থ বক্তা হিসেবে সুযোগ পেয়ে একই সুরে অভিষেকও সরব হন। তাঁর বক্তৃতা শুনতে স্পিকার্স গ্যালারিতে ছিলেন অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা। আইপ্যাড খুলে একের পর এক দশটি ইস্যু তুলে ইংরেজিতে আক্রমণাত্বক হন অভিষেক। বলেন, এটা জুমলার সরকার। সাধারণ নাগরিকের জন্য করের ফাঁদ পাতা হয়েছে, একইভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে অধিকার। তবে বিরোধীদের যতই কণ্ঠরোধ করুন, মানুষ যখন জেগে উঠবে, ব্যালটে তার জবাব দেবে। অপেক্ষায় থাকুন।