Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এ মাসেই শুনানির গোটা প্রক্রিয়া শেষের ফতোয়া, কমিশনের তুঘলকি কাণ্ডে দিশাহারা ইআরওরা

একেই বলে মরার উপর খাঁড়ার ঘা! এমনিতেই এসআইআরের কাজের চাপে মাস দুয়েক ধরে নাজেহাল ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরওরা।

এ মাসেই শুনানির গোটা প্রক্রিয়া শেষের ফতোয়া, কমিশনের তুঘলকি কাণ্ডে দিশাহারা ইআরওরা
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: একেই বলে মরার উপর খাঁড়ার ঘা! এমনিতেই এসআইআরের কাজের চাপে মাস দুয়েক ধরে নাজেহাল ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরওরা। তার উপর এবার তাঁদের জন্য কমিশনের নয়া ফতোয়া। সূত্রের খবর, রীতিমতো নির্দেশ আকারে ইআরওদের বলা হয়েছে, চলতি মাস, অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারির মধ্যে শুনানি প্রক্রিয়ার যাবতীয় কাজ শেষ করে ফেলতে হবে। কমিশনের এই তুঘলকি কাণ্ডে রীতিমতো দিশাহারা শুনানির মূল দায়িত্বে থাকা এই ডব্লুবিসিএস আধিকারিকরা। 

Advertisement

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার যাবতীয় দায়িত্ব ইআরওদের। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নো-ম্যাপ (২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের বা আত্মীয়ের নাম না থাকা ভোটার) এবং সন্দেহজনক ভোটারদের নোটিস ইস্যু থেকে শুরু করে কোনও অভিযোগ থাকলে সেটাও নিষ্পত্তি করতে হবে ইআরওদের। সূত্রের খবর, এই গোটা প্রক্রিয়া আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ইআরওদের শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। অথচ এসআইআরের মূল নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি ছিল শুনানি শেষের সময়সীমা। তার সাতদিন পর, অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। কিন্তু তার অনেক আগে শুনানি প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ করার ফরমান এসেছে। 
কিন্তু বর্তমানে যা পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, তাতে এই নির্দেশ কার্যকর বাস্তবে একরকম অসম্ভব বলেই সাফ জানাচ্ছেন ইআরওরা। তাঁদের একাংশের যুক্তি, নো-ম্যাপ ভোটার সহ যে সংখ্যক সন্দেহজনক ভোটারের নোটিস ইস্যু করে শুনানি করতে হবে, তাতে স্বাভাবিক বিজ্ঞানের নিয়মেই এত অল্প সময়ে কাজ শেষ সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত সময়েও এই কাজ শেষ করা যাবে না বলে মনে করছেন তারা। 
কমিশন সূত্রে প্রাক্তন তথ্য অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত ৬৫ লক্ষ ৭৮ হাজার ৫৮টি শুনানির নোটিস তৈরির কাজ শেষ হলেও ভোটারদের পাঠানো হয়েছে তার অর্ধেকেরও কম—৩২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৫১টি। এখনও বিপুল সংখ্যক নোটিস তৈরিই হয়নি। শুনানির ক্ষেত্রেও এক চিত্র। রাজ্যজুড়ে এ পর্যন্ত মাত্র ৯ লক্ষ ৩০ হাজার ৯৯৩ জন ভোটারের শুনানি সম্পন্ন করা গিয়েছে। দুই ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়ার মত জেলায় নোটিস পৌঁছানো থেকে শুরু করে শুনানি প্রক্রিয়ায় বড় ফাঁক রয়ে গিয়েছে। এক একজনের শুনানি শেষ করতে লেগে যাচ্ছে বিস্তর সময়।
এই পরিস্থিতিতে এমন নির্দেশ সম্পূর্ণ অবাস্তব বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁদের যুক্তি, এই বিপুল সংখ্যক সন্দেহজনক ভোটারের তথ্য আগেই সঠিকভাবে সংগ্রহ করে যাচাই করা হলে, এত সংখ্যক শুনানির প্রয়োজন পড়ত না। কিন্তু বিএলওদের স্বল্প সময়ের মধ্যে এইসব সন্দেহজনক ভোটারদের নথি সংগ্রহ করতে নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। বিএলওরা সেই তথ্য সংগ্রহ করে অ্যাপের মাধ্যমে আপলোড করলেও, তা যাচাইয়ের পর্যাপ্ত সময় মেলেনি। ফলে বিপুল সংখ্যক সন্দেহজনক ভোটারকে এখন শুনানির জন্য ডেকে পাঠাতে হচ্ছে ইআরওদের। শুনানি কেন্দ্র বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও ২ হাজার মাইক্রো অবজার্ভারকেও শুনানির কাজে নিয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু তাতেও কমিশনের এই তুঘলকি ফরমান কার্যকর করা পুরোপুরি অসম্ভব বলেই মনে করছেন ইআরওরা।

সম্পর্কিত সংবাদ