নয়াদিল্লি: ২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে জাতি হিংসায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক ভুংজাগিন ভালতে। প্রায় তিনবছর চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২১ ফেব্রুয়ারি হরিয়ানার একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় জোমি জনজাতির এই বিধায়কের। তারপর তাঁর দেহ রাজ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু শেষকৃত্যে নারাজ তাঁর পরিবার। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই পৃথক জেলার দাবি জানাচ্ছে জোমি সম্প্রদায়। সেই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ভালতের দেহ সমাধিস্থ করা হবে না। পাশাপাশি, বিধায়কের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এনআইএ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
পরিবারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ভালতের দেহ প্রথমে দিল্লি থেকে আইজল নিয়ে আসা হয়েছিল। তারপর মণিপুরের চূড়াচাঁদপুরে। সেখানেই তাঁর পৈতৃক ভিটে। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিজেপি বিধায়কের শেষকৃত্যের প্রস্তাব দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ সিং। যদিও ভালতের ছেলে জোসেফ জানিয়েছেন, মণিপুরের রাজ্যপাল অজয় ভাল্লার কাছে আমাদের দাবি জানানো হয়েছে। তা পূরণ করতেই হবে। অন্যথায় শেষকৃত্য হবে না। এদিকে জোমি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ভুমসুয়ান নৌলাক জানিয়েছেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি চূড়াচাঁদপুরের হাসপাতালে ভালতের দেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। কুকি-জো সম্প্রদায়ের নেতারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। সরকারের কাছে আমাদের একগুচ্ছ দাবি রয়েছে। সেগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শেষকৃত্য স্থগিত।
রাজ্য প্রশাসনের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রয়াত বিধায়কের পরিবারের তরফে দাবি-দাওয়ার তালিকা রাজ্যপালের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, পৃথক জেলার দাবি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। ৩-৪দিনের মধ্যে এই নিয়ে কিছু করা কঠিন। সেকথা ভালতের পরিবারকে জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন বিজেপি বিধায়ক। জানিয়েছিলেন, মেইতেই জঙ্গিরা প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছিল। তার ফলে তিনি শয্যাশায়ী। এই ঘটনার কোনও তদন্ত হয়নি। কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।