


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: আলিপুর মিউজিয়ামে শুধু ব্রিটিশ আমলের নথিপত্রই নয় রয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সহ বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সেল। সারাবছরই সেখানে ভিড় জমায় অসংখ্য মানুষ। শীতের মরশুমে ভিড় বাড়ে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভুয়ো ওয়েবসাইট খুলে আলিপুর মিউজিয়ামের টিকিট বিক্রি করছে প্রতারকরা। সেখান থেকে সেই টিকিট কিনে প্রতারিত হচ্ছেন বহু মানুষ। বিষয়টি নজরে আসার পর হিডকো কর্তৃপক্ষ বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। হিডকোর অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে হয়রান করতে এবং হিডকোর বদনাম করতেই এই চক্রান্ত। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে গড়ে উঠেছে মিউজিয়াম। ২০২২ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর উদ্বোধন করেছিলেন। হিডকো ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মিউজিয়ামের প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা। আলিপুর মিউজিয়ামের একটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট আছে। তবে সেখান থেকে টিকিট কাটা যায় না। কেবলমাত্র ‘যাত্রীসাথী’ অ্যাপ থেকে অনলাইনে এই মিউজিয়ামের টিকিট কাটতে হয়। সেখানে আলিপুর মিউজিয়ামে ক্লিক করে ‘বুক টিকিট’ লেখা জায়গায় যেতে হয়। তারপর কোন তারিখে যেতে চান, সেই দিন নির্বাচিত করে কাটতে হয় টিকিট। সম্প্রতি হিডকো কর্তৃপক্ষের নজরে আসে ওই বেআইনি ওয়েবসাইট। ইন্টারফেস হুবহু অফিসিয়াল মিউজিয়ামের মতো। এমনকী আসল ওয়েবসাইটের ছবিগুলিও সেখানে ব্যবহার করেছে প্রতারকরা। ফলে যাঁরা ওই ওয়েবসাইট খুলে টিকিট কাটছেন, তাঁরা ভাবছেন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেই কাটলেন টিকিট।
বহু মানুষ অনলাইনে টিকিট কাটার জন্য গুগলে সার্চ করেন। এমনভাবে এই ভুয়ো ওয়েবসাইটটি তৈরি করা হয়েছে, আলিপুর মিউজিয়ামের টিকিট বুকিং সার্চ করলেই সেটি বেরিয়ে আসছে। আসল ওয়েবসাইটের নামেই ওই বেআইনি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। শুধু ইউআরএল আলাদা। ভুয়ো ওয়েবসাইটের নীচের দিকে রয়েছে টিকিট কাটার অপশন। সেখানেও টিকিট মূল্য ৩০ টাকা। অর্থাৎ দর্শকদের যাতে সন্দেহ না হয়, তার জন্য টিকিট মূল্য একই রাখা হয়েছে। হিডকোর পক্ষ থেকে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় ওই ভুয়ো ওয়েবসাইটের ইউআরএল, স্ক্রিনশট, টিকিটের স্ক্রিনশট প্রিন্ট করে জমা দেওয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।