নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কখনও গয়া। কখনও পাটনা। কখনও মুম্বই। কখনও গাজিয়াবাদ। প্রায় প্রতি সপ্তাহে চলছে অভিযান এবং উদ্ধার হচ্ছে ভূরি ভূরি জাল ওষুধ। বিগত দেড় বছর ধরে এই প্রবণতা ঊর্ধ্বগামী। ড্রাগ কন্ট্রোলের রিপোর্ট ছিলই। এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রকও বলছে, অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকার ‘জাল ওষুধ শিল্প’ চলছে দেশজুড়ে। বণিকসভা অ্যাসোচেমের একটি রিপোর্ট এসেছে তাদের কাছে। তাতে বলা হচ্ছে, ভারতের বাজারে মোট যত ওষুধ রয়েছে, তার ২০ শতাংশই জাল! সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন এবং রাজ্য স্তরের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনস্ট্রেশনের সম্মিলিত রিপোর্টও এসে গিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে। আর সেটাই উদ্বেগে ফেলেছে অমিত শাহের মন্ত্রককে। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, পুদুচেরি, তেলেঙ্গানা, বিহার... একের পর এক রাজ্যের নাম জড়িয়ে গিয়েছে তদন্তে। নজর করার মতো বিষয় হল, অধিকাংশই ডবল ইঞ্জিন। মূল ঘাঁটি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার। সিবিআই হানা দিয়েছে একের পর এক স্পটে। চলতি মাসেই বিহারের গয়া, পাটনা, দানাপুর, কাটিহারে বিপুল পরিমাণ জাল ওষুধের সন্ধান মিলেছে।
জিংক অক্সাইড, প্যারাসিটামল, অ্যাজিথ্রোমাইসিন, অ্যান্টি অ্যালার্জিক ড্রাগ, অ্যান্টাসিড, কাফ সিরাপ সবথেকে বেশি জাল হয়ে থাকে বলে জানতে পেরেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ কেনাবেচায় কেন্দ্র নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও খুব একটা কাজ হয়নি। আর এই প্রবণতাকে হাতিয়ার করেই ডালপালা ছড়াচ্ছে জাল ওষুধ চক্র। মহারাষ্ট্রের মানপাড়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সম্প্রতি হাইপারটেনশনের একঝাঁক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। থানে এলাকা থেকে ওষুধের এক হোলসেলারকে গ্রেপ্তারের পর জেরায় জানা গিয়েছে, এই চক্র নিছক মহারাষ্ট্রের এক-দু’টি থানা এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই একটি সাপ্লাই চেইন সিস্টেমে কাজ চলছে। সবথেকে বিপজ্জনক যে তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে এসেছে তা হল, দিল্লি সহ দেশের কিছু সরকারি হাসপাতালের সঙ্গেও জাল ওষুধ চক্রের যোগ। দক্ষিণ ভারতের সাপ্লাই চেইন পুদুচেরি। অ্যালোপ্যাথিতেই শেষ নয়, উত্তরাখণ্ডে পাওয়া গিয়েছে আয়ুর্বেদ জাল ওষুধ। বিভিন্ন মোবাইল ভ্যানে করে বেশি বিক্রি হয় আয়ুর্বেদ ওষুধ। এবং এই ওষুধের জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন নেই।
ভারতের ওষুধ শিল্প ৪৫ হাজার কোটি টাকার এক বৃহৎ সেক্টর। ঠিক সমান্তরালভাবে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকার জাল ওষুধ শিল্পের রমরমা চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, দেড় বছর ধরে অভিযান চালিয়ে ৭০০ ওষুধ তৈরির ইউনিটকে স্টপ প্রোডাকশন এবং স্টপ টেস্টিং অর্ডার দেওয়া হয়েছে। যোগ্যতামান পেরতে পারেনি ৩ হাজারের বেশি ওষুধের নমুনা। তার মধ্যে সিংহভাগই জাল। দিল্লি পুলিশ, সিবিআইয়ের পাশাপাশি এনআইএ তদন্তে যুক্ত হয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এই চক্রে জঙ্গিযোগ কতটা। বিশেষ করে যখন দেশে মাথাচাড়া দিয়েছে মেডিকেল মডিউল।