


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একটু তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে চোখ রেখেছিলেন কম্পিউটারে। দেখছিলেন, কে পেল এই বছরের নোবেল পুরস্কার? তারপর চোখে পড়ে মোবাইলে মিসড কল। নেদারল্যান্ডসের জোয়ের মকিরের কাছে খবর এল, ইকোনমিক সায়েন্সে তিনিই পেয়েছেন নোবেল। আবার পদার্থ বিদ্যায় নোবেল পাওয়া ফ্রান্সের মিশেল দেভোরেট ভুলেই গিয়েছিলেন যে, অক্টোবরে নোবেল ঘোষণা করা হয়। ২০২৫ সালে পুরস্কার প্রাপকদের এরকম সব মজার কাহিনি নিয়ে শুরু হয়েছে একটি প্রদর্শনী। চলছে বালিগঞ্জের বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়ামে (বিআইটিএম)।
ফিজিওলজি ও মেডিসিন, রসায়ন, ইকোনমিক সায়েন্স ও পদার্থ বিজ্ঞানে যাঁরা নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তাঁদের নিয়ে হচ্ছে এই প্রদর্শনী। নোবেল পাওয়ার প্রথম খবর শোনার পর তাঁদের অভিব্যক্তি যেমন রয়েছে, তেমনই নিজ ক্ষেত্রে তাঁদের কাজকর্মও তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, বিশ্ব শিশু দিবসে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শান্তি স্বরূপ ভাটনগর পুরস্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপক সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন বিআইটিএম’য়ের ডিরেক্টর অর্ণব চট্টোপাধ্যায়। একে ঘিরে স্কুল পড়ুয়াদের উত্সাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্ব শিশু দিবসে প্রদর্শনীর উদ্বোধনের প্রাক্কালে অধ্যাপক বন্দ্যোপাধ্যায় বাদুরের জীবন প্রণালীর মধ্যে পদার্থ বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং কীভাবে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত, সে বিষয়ে স্কুল পড়ুয়াদের সামনে বক্তব্য রাখেন। তিনি বোঝান, চোখে খুব অল্প দেখতে পাওয়া সত্ত্বেও কীভাবে বাদুর অন্ধকারে ওড়ে। ও তার সঙ্গে খাবারের সন্ধান করে। এর পিছনে রয়েছে পদার্থ বিজ্ঞান। শব্দতরঙ্গ প্রক্ষেপণের মাধ্যমে বাদুর বুঝে নেয় তার সামনে কোনও বাধা রয়েছে কি না। অধ্যাপক খুব সহজভাবে গোটা বিষয় বুঝিয়ে দেন পড়ুয়াদের। শিশুদের কাছে এদিন সবথেকে আকর্ষণের ছিল নোবেল জয়ীদের নিয়ে প্রদর্শনী। প্রদর্শস্থলে গাছের আদলে নোবেল জয়ীদের ছবি সহ তাঁদের জীবন কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র