


অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: স্কুলে স্কুলে সময়মতো বই পৌঁছে দিতে এবার গোটা প্রক্রিয়া নিজেদের হাতেই রাখার কথা ভাবছে শিক্ষাদপ্তর। ছাপাখানা থেকে স্কুল পর্যন্ত বই পৌঁছনোর গোটা প্রক্রিয়াই থাকবে দপ্তরের তত্ত্বাবধানে। পরিকল্পনায় চূড়ান্ত সিলমোহর এখনও না পড়লেও খুব শীঘ্রই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে বিকাশ ভবন সূত্রে খবর। প্রতি বছর সময়ে বই না পাওয়া নিয়ে যে সমস্যা সামনে আসে, এর ফলে তা মিটতে পারে বলে আশাবাদী আধিকারিকরা।
সাধারণত, সরকারি ছাপাখানা সরস্বতী প্রেস থেকে পাঠ্যবই ছাপানো হয়। প্রেস থেকে বইগুলি পাঠানো হতো সিএলআরসি অর্থাৎ সার্কেল লেভেল রিসোর্স সেন্টারে। সেখান থেকে বইগুলি যেত স্কুলে স্কুলে। সূত্রের খবর, সিএলআরসিতে বই পাঠানোর জন্য ইউনিট পিছু দু’টাকা করে দেওয়া হতো সরস্বতী প্রেসকে। একলপ্তে এই টাকা পেয়ে যাওয়ায় অসুবিধা হতো না সরস্বতী প্রেসের। তবে এই ব্যবস্থাতেই পরিবর্তন আনার কথা ভাবা হচ্ছে। এমনিতেই সরকারি প্রেসে কর্মী সঙ্কটে বই ডিটিপি হয়ে বেরতে প্রচুর সময় লাগছে। প্রয়োজনীয় সংশোধনীর পর সিলেবাস কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ড থেকে অনুমোদিত হয়ে তা সেই বই ফের প্রেসে ছাপার জন্য আসছে। এরপর বই বিতরণে লেগে যাচ্ছে আরও সময়। ২ জানুয়ারি বুক ডে’তে বহু স্কুলেই ছাত্রছাত্রীদের হাতে বই তুলে দেওয়া যায় না। বেশ কিছু ক্ষেত্রে বই পেতে আরও দেড়-দু’মাস লেগে যায়। উচ্চ মাধ্যমিকে সিলেবাস পরিবর্তনের পর্ব চলছে। তাই সেক্ষেত্রে বই আরও দেরিতে পৌঁছচ্ছে। তাই এ বছর আগেভাগে বই ছাড়ার কাজ শুরু হয়েছে বলে খবর। ছোটোখাটো সংশোধনী ছাড়া নিচু ক্লাসের বইয়ে সেভাবে পরিবর্তন হচ্ছে না। মাধ্যমিক স্তরেও বড়সড় কোনও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই। নয়া সিলেবাস কমিটি তৈরি হলেও ২০২৭ সালের আগে কোনও ক্লাসেই নয়া পাঠ্যক্রমের বই প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই খবর।
সিএলআরসি লেভেলে বা অনেক সময় স্কুল থেকেও নতুন বইয়ের অভাবে পুরনো বাড়তি বই বিলি করা হতো। এখন থেকে সেই সমস্যাটিও নজরে রাখা হচ্ছে। প্রত্যেকেই যাতে নতুন বই হাতে পায়, তা নিশ্চিত করতে চাইছে শিক্ষাদপ্তর। পুরনো বইয়ে বেশকিছু আপত্তিকর ভুল তথ্য, ছাপার ভুল থেকে যাওয়ায় বিতর্ক হয়েছিল। এসব বিপত্তি এড়াতে উদ্যোগী হয়েছে বিকাশ ভবন।