


সোমনাথ বসু, কলকাতা:
মোহন বাগান-১ (অনিরুদ্ধ থাপা)
ইস্ট বেঙ্গল-২ (দিয়ামানতাকোস-২)
খেলা শেষ হতেই গর্বের মশাল জ্বলল যুবভারতীর গ্যালারিতে। গলা ছেড়ে গেয়ে উঠলেন এক তরুণ সমর্থক, ‘মাছের রাজা ইলিশ আর খেলাতে ফুটবল/সেই খেলাতে সেরা দল আমার ইস্ট বেঙ্গল রে...’। মুহূর্তে সেই গান হয়ে উঠল কোরাস। সামান্য পরেই লাল-হলুদ ধোঁয়ায় ছেয়ে গেল চারদিক। আর তাতেই ভ্যানিশ পালতোলা নৌকা। রবিবার উন্মাদনার ডার্বি জিতে ডুরান্ড কাপের শেষ চারে পৌঁছল অস্কার ব্রুজোঁ ব্রিগেড। এবার প্রতিপক্ষ ডায়মন্ডহারবার এফসি। জোড়া লক্ষ্যভেদে নায়ক সুপার-সাব দিয়ামানতাকোস। উল্লেখ্য, গত মরশুমের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলার মরিয়া তাগিদ দেখা গেল তাঁর মধ্যে। মোহন বাগানের একমাত্র গোলদাতা অনিরুদ্ধ থাপা।
চলতি মরশুমে পরিকল্পিত পথে এগিয়ে চলেছে ইস্ট বেঙ্গল। দলগঠনে তার ছাপ স্পষ্ট। এছাড়া অনুশীলনও শুরু হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ে। তাই ফিটনেসের নিরিখে লাল-হলুদ ব্রিগেড চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে অনেকটা এগিয়ে। এদিন ৯০ মিনিটে তার প্রমাণ মিলল। মোহন বাগানের অধিকাংশ ফুটবলারই ম্যাচ ফিট নন। পাসিং, রিসিভিং এবং শ্যুটিংয়ে তা বোঝা গিয়েছে। পক্ষান্তরে, বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবল উপহার দিয়ে শেষ হাসি হাসল ইস্ট বেঙ্গল।
রবিবার ম্যাচের প্রথমার্ধে অস্কার-ব্রিগেডের আধিপত্য ছিল। তৃতীয় মিনিটে মিগুয়েলের পাস ধরে এডমুন্ডের শট রুখে দেন বিশাল কাইথ। তবে এরপর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন হামিদ। তাঁরই পরিবর্ত দিয়ামানতাকোস। ইস্ট বেঙ্গল কাঙ্ক্ষিত লিড নেয় ৩৬ মিনিটে। বিপজ্জনক বিপিন সিংকে বক্সের মধ্যে ফাউল করে বিপক্ষকে পেনাল্টি উপহার দেন চূড়ান্ত অফ ফর্মে থাকা আশিস রাই। স্পটকিক থেকে জাল কাঁপাতে ভুল হয়নি গ্রিক স্ট্রাইকারের (১-০)। বিরতির ঠিক আগে বাগানের আপুইয়ার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নিষ্প্রভ পাসাং দর্জি তামাংকে তুলে জেসন কামিংসকে মাঠে নামান কোচ হোসে মোলিনা। এই পর্বে মোহন বাগান গোলশোধের চেষ্টা চালায়। আর তারই সুযোগে প্রতি-আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোল তুলে নেয় ইস্ট বেঙ্গল। মহেশের পাস থেকে বল পেয়ে নেওয়া দিয়ামানতাকোসের শট জালে জড়ায় (২-০)। ম্যাচের বয়স তখন ৫২ মিনিট।
দ্বিতীয়ার্ধে লিস্টন কোলাসোর গতির কাছে দু’বার হার মানলেও রাকিপ এদিন লাল-হলুদ রক্ষণকে নির্ভরতা দেন। প্রশংসা করতে হবে সিবলেরও। ৬৮ মিনিটে ব্যবধান কমায় মোহন বাগান। লিস্টনের থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া অনিরুদ্ধ থাপার শট পায়ের জঙ্গল টপকে গোলে ঢোকে (২-১)। সমতা ফেরাতে পেত্রাতোসদের নামিয়েও লাভ হয়নি মোহন বাগানের। আসলে দলটা যে এখনও তৈরি নয়। তাই তো রবিবার রাতের রিংটোন, ‘জিতেছে, জিতবে ইস্ট বেঙ্গল...’।