Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মোদি সরকারের থেকে টাকা আসতে দেরির জের, স্কুলগুলিতে ‘রাশ’ প্রকল্প সময়ে শেষ করাই চ্যালেঞ্জ

শর্ত ছিল, শুধুমাত্র পিএমশ্রী স্কুলগুলির জন্যই আসবে রাষ্ট্রীয় আবিষ্কার শপথ (রাশ) প্রকল্পের টাকা।

মোদি সরকারের থেকে টাকা আসতে দেরির জের, স্কুলগুলিতে ‘রাশ’ প্রকল্প সময়ে শেষ করাই চ্যালেঞ্জ
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: শর্ত ছিল, শুধুমাত্র পিএমশ্রী স্কুলগুলির জন্যই আসবে রাষ্ট্রীয় আবিষ্কার শপথ (রাশ) প্রকল্পের টাকা। তবে, বাংলা পিএমশ্রী প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করেনি। তাই অনেক তদ্বিরের পরে সাধারণ সরকারি স্কুলগুলির জন্য সেই টাকা ফেব্রুয়ারিতে পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। তবে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায় লক্ষ্যমাত্রার অনেক দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে শিক্ষাদপ্তরের অধীন এসসিইআরটি। ৩১ মার্চের মধ্যে আরও ৭০০টি স্কুলে এই প্রকল্প শেষ করাই চ্যালেঞ্জ তাদের কাছে।

Advertisement

‘রাশ’ প্রকল্পটি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিজ্ঞানের হাতেকলমে শিক্ষাদানের জন্য চালু করেছে কেন্দ্র। এই প্রকল্প অনুযায়ী গাছ বসানো এবং বৃষ্টির জল ধরে রাখার আধার তৈরি সবই নিজের হাতে করবে পড়ুয়ারা। সেই আধার বা রেন ওয়াটার পিটের জন্য প্রয়োজনীয় মাপজোক এবং পরিকল্পনাও করবে পড়ুয়ারা। এতে তাদের গণিতেরও অনুশীলন হবে। কোন পরিবেশে কেমন গাছ বসানো উচিত, এই জ্ঞানও হবে তাদের। রাজ্যের ৯০০টি স্কুলের জন্য ৩৬ লক্ষ টাকা এসেছে কেন্দ্র থেকে। মূল প্রকল্পটি ছিল ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে, পরীক্ষার জন্য পরবর্তী সময়সীমাও শেষ হওয়ার মুখে। এসসিইআরটি সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ২০০টি স্কুলে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজ্ঞানের পড়ুয়া বৃদ্ধি করতে একাধিক প্রকল্প নিয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদও। সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান, কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়ার মতো কিছু জেলায় দশমের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে অনলাইন এবং অফলাইনে ওয়ার্কশপ হবে। বিজ্ঞান নিয়ে পড়লে কী সুবিধা, কোন বিষয় নিলে কোন পেশায় যাওয়া যায়, কোথায় কেমন স্কলারশিপ প্রভৃতি বিষয়ে সচেতন করা হবে। এগুলিকে বলা হচ্ছে বুট স্ট্র্যাপ ক্যাম্প। দ্বাদশে এআই, ডেটা সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্সের মতো যুগোপযোগী এবং অত্যাধুনিক বিষয়ের পাশাপাশি সরাসরি পেশার সঙ্গে যুক্ত নানা কোর্সও চালু রয়েছে। সেসব নিয়েও বিস্তর আলোচনা হবে।
নামী কিছু স্কুলের মাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের নিয়েও উচ্চস্তরের কর্মশালা হবে। অফলাইনে কোনও একটি ভেন্যু ঠিক করে সেখানে ছাত্রছাত্রীদের বিজ্ঞানের নতুন বিষয়গুলি নেওয়ার জন্য উৎসাহ দেবে সংসদ। পাশাপাশি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশন ইনোভেশন কাউন্সিলও (আইআইসি) স্কুলপড়ুয়াদের উদ্ভাবনী দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে চলেছে। চিরঞ্জীববাবুর অনুরোধে স্কুল স্তর থেকেই উদ্যোগ এবং উদ্ভাবনী দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন আইআইসি চেয়ারম্যান রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এ প্রসঙ্গে চিরঞ্জীববাবু আইআইসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, উদ্ভাবনী মন ছোট থেকেই তৈরি করতে হয়। হঠাৎ করে তা হয় না। তাই এই উদ্যোগ বিশেষ সহযোগী হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ