Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১০৬৩টি এফআইআর করল জেলা বিদ্যুৎদপ্তর

১০৬৩টি এফআইআর করল জেলা বিদ্যুৎদপ্তর
  • ১০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বীরভূম জেলাজুড়ে অবাধে বিদ্যুৎ চুরি চলছে। উপভোক্তাদের একাংশ ‘চুরি’বিদ্যায় হাত পাকিয়ে নিয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ চুরির অভিনব কায়দা প্রকাশ্যে আসায় আধিকারিকদের চোখ কপালে উঠেছে। অভিযোগ, কোথাও মেন লাইনের তার কেটে বিদ্যুৎ বাইপাস করে দেদার চুরি করা হচ্ছে, আবার কোথাও মিটার টেম্পারিং অর্থাৎ কারসাজি করার অভিযোগও রয়েছে। চলতি অর্থবর্ষের শুরু থেকে ২৫ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানায় ১০৬৩টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জেলাজুড়ে বিদ্যুৎ চুরি রুখতে সিকিউরিটি অ্যান্ড লস প্রিভেনশন(এসএনএলপি) টিমও গঠন করা হল। বিদ্যুৎ চুরি রুখতে যে কোনও সময় এই টিম হানা দেবে। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে উপভোক্তাকে জরিমানা করা হতে পারে। এমনকী হাজতবাসও হতে পারে। রিজিওনাল ম্যানেজার পরিমল সরকার বলেন, বিদ্যুৎ চুরি রুখতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে এসএনএলপি টিম ছুটির দিনেও অভিযান চালাবে। কোথাও বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা নজরে এলেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলাজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। ঘাটতি মেটাতে দপ্তরের তরফে জেলাজুড়ে নতুন করে একাধিক ট্রান্সফর্মার বসানো হচ্ছে। সেইসঙ্গে জেলার সিউড়ি, রামপুরহাট বোলপুর ডিভিশনে দশটির বেশি সাবস্টেশন তৈরির ভাবনাও শুরু হয়েছে। এরই মাঝে ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎ চুরি হওয়ায় দপ্তরের কর্তাদের কার্যত ঘুম উবেছে। অভিযোগ দায়েরের নিরিখে ২১টি কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের মধ্যে ইলামবাজার তালিকার শীর্ষে রয়েছে। প্রায় ন’মাসে ওই এলাকার ১২৯জন উপভোক্তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে কীর্ণাহার ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাভপুর। তবে সিউড়ি ওয়েস্ট ও রাজনগর কাস্টমার কেয়ার সেন্টার এলাকায় একটিও চুরির ঘটনা সামনে আসেনি। 

Advertisement

বিদ্যুৎ চুরি রুখতে দু’জন টেকনিক্যাল ও একজন পুলিসকর্মী নিয়ে গঠিত এসএনএলপি টিম আসরে নেমেছে। অভিযোগ পেলেই দিন কিংবা রাত যে কোনও সময় এসএনএলপি টিম উপভোক্তার বাড়ি পৌঁছে যাবে। এছাড়াও সন্দেহের ভিত্তিতেও অভিযান চলবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অভিযান চলবে। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ চুরি করতে উপভোক্তাদের একাংশ সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠেছে। দপ্তরের কর্মীদের চোখে ধুলো দিতে মিটারে কারসাজি করা হচ্ছে। অত্যাধুনিক সার্কিট বসিয়ে বিদ্যুৎ চুরির কাজ চলছে। সেইসঙ্গে, মেন লাইন অর্থাৎ মিটারের তার কেটে বাইপাস করে বিদ্যুৎ চুরি করা হচ্ছে। সম্প্রতি এই ঘটনাগুলির পর্দা ফাঁস হয়েছে। মিটারে কারসাজির ঘটনাটি ইলামবাজারের। সিউড়ি ইস্টে মেন লাইন বাইপাসের ঘটনা নজরে এসেছে। প্রতি ক্ষেত্রেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেইসঙ্গে এই কাজে কারা মদত দিচ্ছে তা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ