নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ব্যর্থতার দায় নয়। সেনার কৃতিত্বকে সরকারের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতেই লোকসভায় আজ থেকে মোদি সরকার শুরু করছে ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে আলোচনা। ১৬ ঘণ্টা আলোচনা হবে। বিরোধীদের দাবি অগ্রাহ্য করে কেন্দ্র জানিয়ে দিয়েছে, বিহারের এসআইআর ইস্যু আলোচনা করা হবে না। তাই আজ লোকসভা এবং আগামী কাল মঙ্গলবার থেকে রাজ্যসভায় অপারেশন সিন্দুর নিয়ে চর্চা কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অপারেশন সিন্দুর ইস্যু অপেক্ষাকৃত পুরনো হয়ে গিয়েছে। সেই হিসেবে এসআইআর জ্বলন্ত ইস্যু। বিহারের পরেই শুরু হবে পশ্চিমবঙ্গে। তারপর অসম। ভোটমুখী রাজ্যগুলি সেরে একে একে গোটা দেশ। তাই অপারেশন সিন্দুরের নিয়ে আলোচনার আগে এসআইআর নিয়েই আলোচনার দাবিতে সরব তৃণমূল, আরজেডির মতো দল।
যদিও বিরোধীদের একাংশ চায়, সরকার যখন অপারেশন সিন্দুর নিয়ে আলোচনাই রাজিই হয়ে গিয়েছে, সেটা আগে হয়ে যাক। পরে বাকিগুলি। বিরোধীদের দাবি, লোকসভায় আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জবাবি ভাষণ দিন। কিন্তু আলোচনা লোকসভার কোনও নির্দিষ্ট রুল বা বিধি মেনে হচ্ছে না। ‘বিশেষ আলোচনা’, তাই সেখানে প্রথামাফিক জবাবি ভাষণের কোনও বিষয় নেই। তবে নরেন্দ্র মোদি আলোচনায় অংশ নেবেন। লোকসভায় আলোচনা শুরু করবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও বলবেন।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের পক্ষে অপারেশন সিন্দুরের আলোচনায় মণীশ তিওয়ারি অংশ নেবেন। তবে শশী থারুর চাইছেন বলতে। যদিও দল চাইছে রাহুল বা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মতো হেভিওয়েট কেউ আলোচনায় কংগ্রেসের পক্ষে বক্তব্য শুরু করুন। তৃণমূলের পক্ষে বক্তা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষ। লোকসভায় আলোচনার শিরোনাম: ‘পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার প্রত্যাঘাতে ভারতের শক্তিশালী, সফল এবং দৃঢ়সংকল্প অপারেশন সিন্দুর নিয়ে বিশেষ আলোচনা।’ বিরোধীদের প্রশ্ন, সেই যখন ‘বিশেষ আলোচনা’ বলেই চর্চা, তাহলে কেন সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হল না? সংসদে পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিক পরিবার তথা বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ হেনস্তার প্রতিবাদেও তৃণমূল সোচ্চার হবে বলে জানা গিয়েছে। সংসদ চত্বরে হতে পারে ধর্না, বিক্ষোভও।