


নয়াদিল্লি: রাজ্যপালের কাছ থেকে বিবেচনার জন্য আসা কোনও বিল নিয়ে তিন মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে রাষ্ট্রপতিকে। সম্প্রতি এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। রাষ্ট্রপতির জন্য এইভাবে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া নিয়ে এবার বিচার বিভাগকে পাল্টা তোপ দাগলেন উপ রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকার। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতিকে আদালত নির্দেশ দেয়,এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ সুপ্রিম কোর্টকে বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে। বিচার বিভাগের হাতে থাকা সেই ক্ষমতাই এখন গণতান্ত্রিক শক্তিগুলির বিরুদ্ধে ‘পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র’ হয়ে পড়েছে। ভারতীয় গণতন্ত্র এমন জায়াগায় যেতে পারে না যেখানে বিচারপতিরাই আইন তৈরি করেন, কার্যনির্বাহী দায়িত্ব পালন করেন এবং ‘সুপার পার্লামেন্ট’ হিসেবে কাজ করেন।
রাজ্যসভার ষষ্ঠ ব্যাচের ইনটার্নদের উদ্দেশে ভাষণে এদিন উপ রাষ্ট্রপতি কড়া ভাষায় বিচার বিভাগকে নিশানা বানান। রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তগ্রহণের জন্য শীর্ষ আদালত যেভাবে সময় বেঁধে দিয়েছে, তার কড়া সমালোচনা করেন তিনি। সেই সঙ্গেই দিল্লি হাইকোর্টে কর্মরত থাকাকালীন বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মার বাসভবন থেকে বিপুল নগদ টাকা উদ্ধারের প্রসঙ্গ টেনেও বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে সরব হন ধনকার। তাঁর তোপ, সাত দিন তো ঘটনার কথা কেউ জানতও না। নিজেদের কাছেই প্রশ্ন করতে হবে আমাদের। এই বিলম্বের কোনও ব্যাখ্যা থাকতে পারে? ক্ষমার যোগ্য? এই ঘটনা কি সুনির্দিষ্ট কিছু মৌলিক প্রশ্ন তুলছে না? নগদ উদ্ধারের পর ওই বিচারপতির বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি। এই দেশে সাংবিধানিক পদে থাকা সহ যেকোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা যায়। এমনকী আমার বিরুদ্ধেও তা সম্ভব। শুধু আইনের সুনির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়। এজন্য কোনও অনুমতি লাগে না। কিন্তু সেই ব্যক্তি একজন বিচারপতি হলে সরাসরি এফআইআর দায়ের করা যায় না। এজন্য বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগে। কিন্তু সংবিধান শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালদের সেই রক্ষাকবচ দিয়েছে। তাহলে আইনের বাইরে গিয়ে কীভাবে (বিচারপতিদের) এই সুরক্ষা নিশ্চিত হল?