


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বুধবার, হোলি উৎসবের দিন দুপুরবেলা বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই মধ্যমগ্রাম স্টেশন লাগোয়া একাধিক দোকান। আগুনে ঝলসে মৃত্যু এক বৃদ্ধের। তিনি পেশায় শ্রমিক। নাম দয়াল শীল (৭০)। রেস্তরাঁ, কাঠের গোলা, মিষ্টির দোকান ইত্যাদি মিলিয়ে ১৭টি দোকান ভস্মীভূত। ১৫টি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন একটানা আগুনের সঙ্গে লড়াই চালায়। প্রায় চারঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পকেট ফায়ার নির্বাপণে দীর্ঘক্ষণ ধরে হিমশিম খেতে হয়েছে দমকলকর্মীদের। এলাকাটি কলকাতা বিমানবন্দরের খুব কাছে। ফলে আতঙ্কের মাত্রা হয়ে ওঠে দ্বিগুণ।
মধ্যমগ্রাম পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডে রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ব্রিজের নীচে কয়েকটি দোকান আছে। রয়েছে রেস্তরাঁ, কাঠের গোলা, সেলুন, মিষ্টি ও অন্যান্য দোকান। সেগুলি অধিকাংশ তৈরি হয়েছে রেলের জায়গায়। কয়েকটি পুরসভার জায়গায়। দোকানগুলির পিছনে বস্তি এলাকা। পাশে আছে কয়েকটি বহুতল। জানা গিয়েছে, এদিন দুপুর ১টা নাগাদ কাঠের গোলার ভিতরে শ্রমিকরা এলপিজি গ্যাস জ্বালিয়ে রান্না করছিলেন। সে সময় পাইপ লিক করে আগুন ধরে বলে পুলিশের অনুমান। এরপর মুহূর্তে আগুন বিধ্বংসী আকার নেয়। দু’টি রেস্তরাঁ, সেলুন, দু’টি মিষ্টির দোকান এবং আরও কয়েকটি দোকানে আগুন লাগে। প্রাণ হাতে কোনওরকমে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন শ্রমিকরা। তবে ৭০ বছরের দয়াল শীল বেরতে পারেননি। আগুনে দগ্ধ হন। তিনি রেস্তরাঁ-মিষ্টির দোকানে চেয়ার-টেবিল সাফাইয়ের কাজ করতেন। আগুন লাগার পর পিছনের বস্তি থেকেও বাসিন্দারা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
অগ্নিকাণ্ডের জেরে চৌমাথা থেকে সোদপুর রোড ধরে ষ্টেশনে দিকে আসা যান চলাচল বন্ধ করা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছন বারাসত পুলিশ জেলার আধিকারিক ও রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ, পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ, ভাইস চেয়ারম্যান প্রকাশ রাহা প্রমুখ। আশুতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রীবাস দে নামে দুই স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আমরা আতঙ্কিত।’ স্থানীয় বিধায়ক ও খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ বলেন, ‘এলপিজি সিলিন্ডার ফেটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পিছনে মানুষের বাড়িঘর আছে। সেখানে আগুন ছড়ায়নি।’ পুরপ্রধান নিমাই ঘোষ বলেন, ‘অধিকাংশ দোকান রেলের জায়গায়। চারটি দোকান পুরসভার মধ্যে। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।’ পুরসভার বিরোধী দলনেতা অলোক সাহা বলেন, ‘একের পর এক দোকান গজিয়ে কার্যত জতুগৃহে পরিণত হয়েছে জায়গাটি। বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি দেখার কথা বলেছিলাম। কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেয়নি।’ মধ্যমগ্রামের ফায়ার অফিসার শুভজিৎ লোধ বলেন, ‘আগুনে ১৭টি দোকান পুড়েছে। ১৫টি দোকান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার দুর্বার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘একজনের দেহ উদ্ধার হয়েছে।’ - নিজস্ব চিত্র