পাটনা: কখনও মালদ্বীপের বিলাসবহুল সমুদ্রতটে গভীর সাধনায় মগ্ন তিনি। কখনও নেশায় ঢুলু ঢুলু চোখে পুলিসকর্মীকে ‘মিষ্টি’ হুমকি—ঠুমকা লাগাও, নাহলে সাসপেন্ড করে দেব। বরাবরই রঙিন মেজাজে থাকতে পছন্দ করেন ‘তেজু ভাইয়া’। দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো এই সমস্ত কাজকর্মই এবার ডোবাল লালু-পুত্র তেজপ্রতাপ যাদবকে। ‘প্রেমিকা’ অনুষ্কা যাদবকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট। তা থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। শেষমেশ রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) থেকে বহিষ্কার করা হল তেজপ্রতাপ যাদবকে। ত্যাজ্যপুত্রও ঘোষণা করা হয়েছে তাঁকে। দলের পাশাপাশি পরিবার থেকে বড় ছেলেকে বের করে দেওয়ার কথা রবিবার নিজের মুখেই জানিয়েছেন বাবা লালুপ্রসাদ যাদব। এদিন আরজেডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ জানান, ‘তেজপ্রতাপের ব্যক্তিজীবনে কোনও নৈতিক মূল্যবোধ নেই। আর এই মূল্যবোধের অভাব সামাজিক ন্যায়বিচারের স্বার্থে সমষ্টির সংগ্রামকে ক্রমশ দুর্বল করে দেয়। একজন নেতার ক্ষেত্রে যা কখনও কাম্য নয়। তাই তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবারের তরফেও তাঁর সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখা হবে না।’ ছয় বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে তেজপ্রতাপকে।
দিন দুয়েক আগে তেজপ্রতাপের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে একটি ছবি শেয়ার করা হয়। সেখানে অনুষ্কা যাদব নামে এক মহিলার সঙ্গে দেখা গিয়েছে তেজপ্রতাপকে। পোস্টে লেখা রয়েছে, বিগত ১২ বছর ধরে অনুষ্কার সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন তিনি। তারপরই রীতিমতো হইচই পড়ে যায়। প্রশ্ন ওঠে, ১২ বছর ধরে যদি সম্পর্কে রয়েছেন, তাহলে ২০১৮ সালে বিহারের প্রাক্তন মন্ত্রীর কন্যা ঐশ্বর্যকে কেন বিয়ে করলেন? তাঁদের বিচ্ছেদের কারণ নিয়েও গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতির সামাল দিতে তড়িঘড়ি সেই পোস্ট ডিলিট করে দেওয়া হয়। সাফাই দিয়ে তেজপ্রতাপ বলেন, আমার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে। ছবিগুলি কেউ এডিট করে ছড়িয়ে দিয়েছে। কেউ বা কারা আমাকে ও আমার পরিবারকে হেনস্তা করার চক্রান্ত করেছে। কিন্তু এতেও শেষরক্ষা হয়নি। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেন সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদব। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘বড় ছেলের কার্যকলাপ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধকে নষ্ট করছে। এতে দলের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই তাঁকে পরিবার ও দল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এবার থেকে তাঁর সঙ্গে কেউ যোগাযোগ রাখলে তা নিজেদের দায়িত্বে রাখবেন।
দাদার কর্মকাণ্ডে বিরক্ত ভাই তেজস্বী যাদবও। তিনি জানান, ব্যক্তিজীবনে দাদার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন সম্পূর্ণ আলাদা। কোনওভাবেই এই ধরনের কার্যকলাপ মেনে নেওয়া হবে না। একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, আমরা বিহারবাসীর স্বার্থে নিরন্তর কাজ করতে দায়বদ্ধ।