Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

মহিলা বিলের মোড়কে ডিলিমিটেশন, সংখ্যার ধাক্কায় সংসদে বেইজ্জত মোদি সরকার

জোড়া ধাক্কা। সকালে ছিল ডবল ইঞ্জিন ত্রিপুরায় জেলা পরিষদের ভোটে ভরাডুবি। আর রাতে সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে ভোটাভুটিতে চূড়ান্ত ব্যর্থতা।

মহিলা বিলের মোড়কে ডিলিমিটেশন, সংখ্যার ধাক্কায় সংসদে বেইজ্জত মোদি সরকার
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:০৪
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: জোড়া ধাক্কা। সকালে ছিল ডবল ইঞ্জিন ত্রিপুরায় জেলা পরিষদের ভোটে ভরাডুবি। আর রাতে সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে ভোটাভুটিতে চূড়ান্ত ব্যর্থতা। এককাট্টা বিরোধীদের সংখ্যার ধাক্কায় লোকসভায় বেইজ্জত হয়ে গেল মোদি সরকার। এবং একটিই বার্তা ঘোরাফেরা করতে শুরু করল দিল্লির দরবারের আকাশে বাতাসে— মোদি জমানার শেষের শুরু। কারণ, মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে ১৩১তম সংবিধান সংশোধন বিলের মোড়কে এলাকা পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করানোরও চেষ্টা করেছিলেন মোদি-শাহ। কিন্তু সংশোধনী বিল পাশ করানোর সংখ্যাই জোগাড় করতে পারলেন না তাঁরা। বিল পাশ করাতে প্রয়োজন ছিল ৩৫২। কিন্তু আলোচনা শেষে ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়ল ২৯৮ ভোট। বিপক্ষে বিরোধীদের ২৩০। তাই হার মানতেই হল মোদি সরকারকে। 

Advertisement

সন্ধ্যা ৭টা ২৪ থেকে ৭টা ৪৩। টানটান উত্তেজনার এই ১৯ মিনিটের সাক্ষী থাকল শুক্রবারের সংসদ। বিরোধীরা দেখিয়ে দিল, তারা একজোট। পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর বিধানসভা ভোটের আগে যা নরেন্দ্র মোদির কাছে নৈতিক ধাক্কাও বটে। কেন্দ্রের কুর্সিতে বসা ইস্তক এই প্রথম কোনো বিলে হার হল মোদির। তাই ব্যর্থতার দায় নিয়ে লোকসভার ট্রেজারি বেঞ্চে সামনের সারিতে নিশ্চুপ হয়ে মাথা নীচু করে বসে থাকতে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রীকে। সংবিধান সংশোধন বিল পাশ না হওয়ায় বাকি দু’টি বিলও আর পাশ করানোর চেষ্টা করল না সরকার।  
বোতাম টিপে ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে প্রথমে ভোট পড়েছিল ২৭৮। বিপক্ষে ২১১। পরে কাগজের ভোটে (যাঁরা মেশিনে দিতে পারলেন না) আরও কিছু যুক্ত হতে পারে ভেবে প্রত্যাশার প্রতীক্ষণ পার করছিলেন মোদি। পরে সেটি বাড়ল বটে। তবে সভার মোট আসন সংখ্যার অর্ধেকের একটি বেশি এবং উপস্থিত সদস্যদের দু‌ই-তৃতীয়াংশ ভোট জুটল না। কষ্টার্জিত হাসি মুখে ঝুলিয়ে সভা থেকে বেরিয়ে যান মোদি। তবে বিল পাশ না হওয়ায় বিরোধীদের সমালোচনার কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে সংসদ চত্বরে বিজেপির মহিলা সাংসদরা নামেন পোস্টার হাতে। স্লোগান তোলেন, মহিলায়োঁ কা ইয়ে অপমান/নেহি সহেগা হিন্দুস্তান। রাহুল গান্ধী হায় হায়। পালটা বিরোধীরাও প্রচার শুরু করল। এ যে আদৌ মহিলা সংরক্ষণ নয়, বরং তার মোড়কে ডিলিমিটেশন—সেটাই তুলে ধরলেন তাঁরা। রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘মহিলাদের নাম করে অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংশোধনী বিল আনার চেষ্টা করেছিল মোদি সরকার। কিন্তু ভারত দেখে নিল, ইন্ডিয়া (জোট) তা রুখে দিয়েছে। জয় সংবিধান।’ এক্স হ্যান্ডলে ডেরেক ও’ব্রায়েন লেখেন, ‘মোদি-শাহের এটা শেষের শুরু।’
এদিন বিল আটকানোর সাফল্যের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। বিরোধী শক্তি মজবুত করার জন্য তৃণমূল সুপ্রিমোকে ধন্যবাদ জানান অখিলেশ। কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায়, মালা রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দলের ২১ সাংসদ এদিন ভোটাভুটিতে অংশ নেন। তাই জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতে রাহুল গান্ধী ফোন করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিরোধী দলগুলির মধ্যে সুষ্ঠু-সফল সমন্বয়ের জন্য ডেরেককে ধন্যবাদ জানান মল্লিকার্জুন খাড়্গে।
২০১১ সালের সেন্সাস ডেটাকে সামনে রেখে লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে ৮৫০ করতে চেয়েছিল সরকার। তবে এলাকা পুনবির্ন্যাসের এই বিলটি পাশ করাতে চেষ্টা ছিল ১৩১ সংবিধান সংশোধন বিলের মোড়ক। বিরোধীদের মন গলানোর চেষ্টা করেছিলেন মোদি। অমিত শাহের হুমকি ছিল, বিল আটকালে মহিলা ভোটারদের সামনে মুখ দেখাতে পারবেন না। যদিও বিরোধীরা বিভ্রান্ত না হয়ে অবস্থানে অনড় থেকে বুঝিয়ে দিলেন, ‘ইন্ডিয়া’ একজোট হলে মোদির হার অনিবার্য। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ