ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি: ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ চলছে ভারতে। লঙ্ঘিত হচ্ছে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার। এই অভিযোগে এবার ভারতের গুপ্তচর সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং বা ‘র’ এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে (আরএসএস) কাঠগড়ায় তুলল একটি মার্কিন কমিশন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কাছে এই দুই ভারতীয় সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করল আমেরিকার আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন বা ইউএসসিআইআরএফ। শুধু তাই নয়, ‘র’ এবং আরএসএসের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আর্জিও জানিয়েছে তারা। যদিও মার্কিন কমিশনের এই রিপোর্টের তীব্র বিরোধিতা করেছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। মার্কিন কমিশনের রিপোর্টটিকে সম্পূর্ণ ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং ‘ভ্রান্ত তথ্য নির্ভর’ বলে খারিজ করে দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
বার্ষিক রিপোর্টে ইউএসসিআইআরএফ দাবি করেছে, ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলার ঘটনা বাড়ছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ বলে অভিহিত করেছে তারা। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘র’ এবং আরএসএসের উপর সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হোক। ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্রমশ কমছে বলেও ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
যদিও এই সুপারিশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘কয়েক বছর ধরেই এই কমিশন বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের বদলে নির্দিষ্ট মতাদর্শের উপর ভিত্তি করে ভারতের বিকৃত ছবি তুলে ধরতে চাইছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের সমালোচনা করার বদলে আমেরিকায় হিন্দু মন্দিরে হামলা, ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উপর ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা এবং হেনস্তার দিকে নজর দেওয়া উচিত কমিশনের।’ উল্লেখ্য, এর আগেও মার্কিন ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন ভারতে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছিল। ফলে পূর্বের মতো তাদের এবারের রিপোর্টকেও ‘ভিত্তিহীন’ বলে খারিজ করে দিল বিদেশ মন্ত্রক।