


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আপাতত ৪০ দিনের জন্য হঠাৎ তুলো আমদানির উপর শুল্ক শূন্য করে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। লক্ষ্য বস্ত্র শিল্পকে সুরাহা দেওয়া। ১১ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমে যাওয়ায় বিভিন্ন তুলো উৎপাদনকারী দেশ ভারতে বেশি করে তুলো রপ্তানিতে উৎসাহিত হবে। এবং এই তালিকায় অবশ্যই থাকবে আমেরিকাও। বস্তুত মনে করা হচ্ছে দেশীয় বস্ত্রশিল্পকে উৎসাহ এবং আর্থিক সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই সিদ্ধান্ত হলেও পরোক্ষে আমেরিকাকই বার্তা দেওয়া হল শুল্ক কমানোর। ১১ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমে যাওয়ায় আমেরিকার রপ্তানিকারী সংস্থাগুলি খুশি হবে। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন কী করবে শুল্ক নিয়ে সেটাও দেখার। এরপর ট্রাম্প যদি বস্ত্র শিল্পের ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক না কমান, তাহলে ভারতের বস্ত্র রপ্তানিকারীরা আমেরিকায় বস্ত্র পাঠানো কমিয়ে দেবে। একইভাবে আমেরিকা থেকে তুলো আমদানিও বন্ধ করা হবে।
একবার যখন তুলোর আমদানি শুল্ক কমে গিয়েছে, তখন ব্রাজিল সহ অন্য একঝাঁক দেশ চাইবে আরও বেশি করে ভারতে তুলো রপ্তানি করতে। সুতরাং আমেরিকাকে একইসঙ্গে যেমন ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হল যে, ভারত শুল্ক এক ধাক্কায় কমিয়ে দিয়েছে, তেমনই আবার এই বার্তাও দেওয়া হল যে, আমেরিকা যদি শুল্ক না কমায় তাহলে এবার ভারত তুলো আমদানি বাড়াবে অন্য দেশ থেকে। ২০২৪ সালে ভারত আমদানি করেছে ৩৯ লক্ষ বেল তুলো। সবথেকে বেশি তুলো ভারতে পাঠায় আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল এবং মিশর। সুতরাং এই আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেওয়ায় সব রাষ্ট্রই চাইবে ভারতে আরও বেশি করে তুলো পাঠাতে। এই অতিরিক্ত জোগানের জেরে ভারতের অভ্যন্তরে বস্ত্রশিল্প উৎপাদন ব্যয় কমবে। সুতরাং আমেরিকার আমদানি শুল্কের ভয়ে দেশজুড়ে বস্ত্রশিল্পে যে কালো মেঘের আশঙ্কা ছিল সেটি কমবে। যদিও প্রশ্ন হল, যদি ১১ শতাংশ শুল্ক কমানোই হল, তাহলে সেটা ২০ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সময়সীমার জন্য কেন? সরকারি সূত্রের খবর, আপাতত এই সময়সীমা রাখা হলেও, আগামী দিনে সম্প্রসারিত হবে এই শুল্ক সিদ্ধান্ত।