Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

ছত্তিশগড়ের বেদান্ত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মৃত বেড়ে ১৭, তালিকায় বাংলার পাঁচ

ছত্তিশগড়ের সক্তি জেলায় বেদান্ত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৭।

ছত্তিশগড়ের বেদান্ত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মৃত বেড়ে ১৭, তালিকায় বাংলার পাঁচ
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সক্তি (ছত্তিশগড়): ছত্তিশগড়ের সক্তি জেলায় বেদান্ত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৭। বুধবার পুলিশের তরফে একথা জানানো হয়েছে। সক্তির জেলাশাসক অমৃত বিকাশ তপনো জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ শ্রমিক। তাঁদের নাম সুশান্ত জানা, শেখ সইফুদ্দিন, মানস গিরি, কার্তিক মাহাত ও শিবনাথ মুর্মু। এছাড়া ছত্তিশগড়ের পাঁচ, ঝাড়খণ্ডের তিন, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের দু’জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা ও জখমদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাঁই। বেদান্ত পাওয়ার জানিয়েছে, মৃতদের পরিবারকে ৩৫ লক্ষ টাকা ও চাকরি এবং জখমদের জন্য ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী সাইঁ জানিয়েছেন, বিলাসপুর ডিভিশনের কমিশনার ঘটনার তদন্ত করবেন। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও বিরোধী দল কংগ্রেস দাবি করেছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে বিচারবিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে। মৃতদের পরিবারপিছু ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বুধবার ছত্তিশগড়ের কংগ্রেস নেতা সুশীল আনন্দ শুক্লার অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে বিস্ফোরণের এই ঘটনা। রাজ্যের বিজেপি সরকার তা আড়াল করার চেষ্টা করছে।

Advertisement

সক্তি জেলার সিংহীতরাই গ্রামে অবস্থিত বেদান্তের বিদ্যুৎকেন্দ্রে মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। বয়লার থেকে স্টিলের টিউবে উচ্চ চাপে টার্বাইনে বাস্প পাঠানোর সময় প্রবল বিস্ফোরণ হয়। পুড়ে গিয়ে জখম হন বহু শ্রমিক। পুলিশ সুপার প্রফুল্ল ঠাকুর বুধবার জানান, ঘটনাস্থলেই চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। পরে মঙ্গলবারই মারা যান আরও ৯ জন। হাসপাতালে নতুন করে আরও চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৭। রায়পুর ও রায়গড়ের হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৯ জন শ্রমিক। কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। পৃথকভাবে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলাশাসক জানিয়েছেন, দাভরার মহকুমা শাসককে ৩০ দিনের মধ্যে সেই তদন্তের রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে। কোনো রকম যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, খতিয়ে দেখা হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিরাপত্তা বিধি মেনে কাজ চলছিল কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখা হবে। 

সম্পর্কিত সংবাদ