সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ঠিক এক মাসে আগে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট—‘২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকার প্রকাশের পরও লাগাতার সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে।’ অথচ এতদিনে মাত্র একটিই তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। তাও লেজে-গোবরে অবস্থায়। ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন বিচারাধীনের মধ্যে থেকে ঠিক কত ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হল? কত বাদ গেল? মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টেও সেই পরিসংখ্যান খোলসা করল না কমিশন। কিন্তু মনোনয়ন জমার শেষদিনের আগে যদি নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে তো ভোটই দিতে পারবেন না ‘বিচারাধীন’রা। সময় পেরিয়ে গেলে নাম বাতিলের নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইবুনালে আবেদন করেও তো লাভ হবে না। তাহলে উপায় কী? শুনানিতে নির্বাচন কমিশনকে এই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। তখনই চাপে পড়ে কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু তড়িঘড়ি প্রস্তাব দেন, ‘আমরা রোজ তালিকা প্রকাশ করতে চাই। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যদি সম্ভব হয় তাহলে বিবেচনাধীনে নিষ্পত্তি হলেই যেন আমাদের তালিকা দেওয়া হয়। তাহলে আমরাও প্রতিদিন তালিকা প্রকাশ করতে পারি।’
শুধু তাই নয়, ট্রাইবুনালে আবেদনের প্রক্রিয়া সহজ করার কথাও জানান তিনি। বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আবেদন জানানো অথবা ১৯টি ট্রাইবুনালের বিচারপতিরা যেখানে বসে কাজ করতে চান, সেখানেই যাবতীয় ব্যবস্থা করতে পারি।’ সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য, কলকাতার জুডিশিয়াল আকাদেমির মতো একটি জায়গাতেই তা করা যায় কি না, ভেবে দেখা হোক। একইসঙ্গে ভোটের সাতদিন আগে পর্যন্ত নাম তোলার বিষয়টিও ভাবনাচিন্তা করার পরামর্শ দিয়েছে দেশের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। তবে কমিশনকে শীর্ষ আদালতের সাফ নির্দেশ, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায়, অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল যে ১৫২ টি কেন্দ্রে ভোট, সেখানকার বিচারাধীন ভোটারদের বিষয়টি আগে নিষ্পত্তি করা হোক।
প্রথম দফায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৬ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফার ভোটে মনোনয়নের শেষ তারিখ ৯ এপ্রিল। নিয়ম অনুযায়ী, সেদিনেই ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাবে। অর্থাৎ ওইদিন পর্যন্ত যাদের নাম তালিকায়, তারাই ভোট দিতে পারবেন। সেই সময় বাড়ানোর আবেদন করেন মামলাকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। বলেন, বিষয়টিকে ভোটদানের সাতদিন পর্যন্ত করা হোক। যাদের নাম শেষ মুহূর্তেও উঠবে না, তারাও যাতে ভোট দিতে পারে, সেটি নিশ্চিত করুন। আরজি শুনে সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য এদিন কিছু বলেনি। আগামী ১ এপ্রিল পরবর্তী শুনানি হবে।