


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রান্নার গ্যাসের বুকিং নিয়ে এখনও সংকট কাটেনি। বুকিং হচ্ছে না—এমন অভিযোগে নাজেহাল গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটররা। আবার বুকিং হওয়ার পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও সিলিন্ডার ডেলিভারি না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার গ্রাহক। তাঁদের কথায়, সিলিন্ডারের শেষ ডেলিভারির পর ২৫ দিন অপেক্ষা করে তবে গ্যাস বুকিং হবে। একবারের চেষ্টায় বুকিং হবে, এমন গ্যারান্টি নেই। এমনকি, বুকিং হলেও এসএমএস না আসায় বুকিং আদৌ সম্পন্ন হল কি না, তাও জানার উপায় নেই। যদিও বা ডিএসি (ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড) সহ এসএমএস আসে, তারপর বেশ কয়েকদিনের অপেক্ষাতেও মিলছে না সিলিন্ডার। বহু গ্রাহকের অভিযোগ, বুকিং করার পর ১০ দিন কেটে গেলেও সিলিন্ডার আসেনি। একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার ক্রমাগত দাবি করে আসছে, এলপিজি নিয়ে কোনো সমস্যাই নেই। গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের জোগানে কোনো সমস্যা হবে না। সিলিন্ডার বুকিংয়ের দুই থেকে তিন দিনের মাথায় ডেলিভারি হবে—এমন দাবিও করছে তারা। কেন্দ্রের এই দাবির সঙ্গে যে বাস্তবের কোনো মিল নেই, সেটাই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
কেন সিলিন্ডার পেতে দেরি হচ্ছে? ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশের মতে, তাঁরা গড়ে যে সংখ্যক সিলিন্ডার পেতেন তেল সংস্থাগুলির থেকে, তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গৃহস্থের সিলিন্ডারের জোগান ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে বলে দাবি তাঁদের। অর্থাৎ আগে যদি গড়ে ১০ হাজার সিলিন্ডার পাঠানো হতো কোনো ডিস্ট্রিবিউটরকে, এখন তা কমে হয়েছে সাত হাজার। অথচ, আগে যদি মাসে গড়ে ১০ হাজার সিলিন্ডার বুকিং হত, এখন তা বেড়ে ১৭ থেকে ১৮ হাজার হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ জোগান কমেছে। কিন্তু চাহিদা অনেকটা বেড়েছে। তাই কোনোভাবেই ডেলিভারির ভারসাম্য বজায় রাখা যাচ্ছে না বলে দাবি করছেন তাঁরা। ডিস্ট্রিবিউটরদের কথায়, তেল সংস্থা থেকে জোগান সুষ্ঠু না হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রাহককে ডেলিভারি দেওয়া একপ্রকার অসম্ভব। অন্যদিকে, এরাজ্যে চাহিদার ২০ শতাংশ বাণিজ্যিক সিলিন্ডার দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কিছুই নয়। ফলে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে রেস্তরাঁ, হোটেল থেকে শুরু করে নানা স্তরে।