


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ধিক ধিক করে আগুন জ্বলছিল। আর তাতে ঘৃতাহুতি দিলেন দুই ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ হর্ষ ভোগলে ও সাইমন ডুল। আসলে গত ম্যাচে গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে ছিল স্পিন সহায়ক পিচ। তার সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষ রাজস্থান রয়্যালসকে চেপে ধরেছিলেন বরুণ চক্রবর্তী, মঈন আলিরা। অল্প রানেই আটকে রাখা সম্ভব হয়েছিল সঞ্জু স্যামসনদের। ফলে জিততে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি কেকেআরকে। তার পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তাহলে হোম ম্যাচে ইডেনে নাইটরা কেন এমন স্পিন সহায়ক পিচ পাবে না? সাইমন ডুলের বক্তব্য, ‘কিউরেটর যদি কথা শুনতে না চায় তাহলে নাইট রাইডার্সের উচিত ইডেন থেকে হোম ভেন্যু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া। কিউরেটরের কাজ হোম টিমের দাবি মেনে পিচ বানানো। তার জন্য তিনি টাকা পান, মতামত দেওয়ার জন্য নয়।’ এরপর হর্ষ ভোগলেও দেন কড়া প্রতিক্রিয়া। তাঁর কথায়, ‘কেকেআরের সঙ্গে ইডেনে যা হচ্ছে সেটা খুবই হতাশাজনক। বাকি হোম টিমগুলি নিজেদের পছন্দ মতো পিচ পাচ্ছে, কেকেআর পাবে না কেন? কেউ তো এমন র্যাঙ্ক টার্নার চাইছে না, যেখানে ১২০ রানেই গুটিয়ে যাবে ইনিংস। কেকেআর তাদের শক্তি অনুযায়ী স্পিন সহায়ক পিচ চাইছে, যাতে বোলাররাও ম্যাচ জেতাতে পারে। এর মধ্যে অন্যায় কিছু নেই।’
ইডেনের পিচ বিতর্ক হইচই ফেলে দিয়েছে ক্রিকেট মহলে। বিতর্ক শুরু কয়েকদিন আগেই। উদ্বোধনী ম্যাচে আরসিবি’র কাছে হারের পর কেকেআর ক্যাপ্টেন অজিঙ্কা রাহানে ইডেনে টার্নিং ট্র্যাক চেয়েছিলেন। তা শুনেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছিলেন কিউরেটর সুজন মুখার্জি। এক সাক্ষাৎকারে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, কারও কথায় তিনি পিচের চরিত্র বদলাবেন না। অর্থাৎ যেমন উইকেট দেব, তাতেই খেলতে হবে। আর তাতেই আপত্তি কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্টের। বুধবার পর্যন্ত নিজের অবস্থানেই অনড় ছিলেন সুজন। কিন্তু হর্ষ ভোগলে, সাইমন ডুলরা কড়া প্রতিক্রিয়া জানানোর পর সুর নরম করতে বাধ্য হয়েছেন ইডেনের কিউরেটর। কারণ, তিনি জানেন ম্যাচ পিছু কেকেআর সিএবি’কে দেয় এক কোটি টাকা। তাই শাহরুখ খান, জুহি চাওলারা অসন্তুষ্ট হয়ে ভেন্যু যদি পরিবর্তন করে, তাহলে সিএবি কর্তারা তাঁকে ছেড়ে কথা বলবেন না। বরং কিউরেটরের চাকরিটাই যাবে। তাই পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে সন্ধির বার্তা দিচ্ছেন সুজন। ফোনে তিনি বললেন, ‘কেকেআর কর্তৃপক্ষ ঠিক কেমন পিচ চাইছে, তা আমাকে বলেনি। রাহানে আমার সন্তানের মতো। ও শহরে ফিরুক, তারপর কথা হবে। তবে পিচের চরিত্র রাতারাতি আমূল বদলে ফেলা সম্ভব নয়। কিন্তু ওরা যা চাইছে, সুযোগ থাকলে সেটা অবশ্যই করা হবে।’