Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

একলব্য স্কুলে সব শিক্ষককেই পড়াতে হবে হিন্দি, মোদি সরকারের নির্দেশে বিতর্ক

চাকরি পেতে হলে হিন্দি বাধ্যতামূলক! ন্যাশনাল এডুকেশন সোসাইটি ফর ট্রাইবাল স্টুডেন্টস (এনইএসটিএস)-এর অধীন একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলগুলির এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বহু দানা বিতর্ক দানা বেঁধেছিল দেশজুড়ে।

একলব্য স্কুলে সব শিক্ষককেই পড়াতে হবে হিন্দি, মোদি সরকারের নির্দেশে বিতর্ক
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: চাকরি পেতে হলে হিন্দি বাধ্যতামূলক! ন্যাশনাল এডুকেশন সোসাইটি ফর ট্রাইবাল স্টুডেন্টস (এনইএসটিএস)-এর অধীন একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলগুলির এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বহু দানা বিতর্ক দানা বেঁধেছিল দেশজুড়ে। ফের এমনই এক নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্র। কেন্দ্রের নির্দেশ, একলব্য স্কুলে কেবল ভাষার শিক্ষকরা নন, এবার থেকে হিন্দি পড়াতে হবে অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষকদেরও। গত ২০ আগস্ট জারি করা নির্দেশে বলা হয়েছে, ‘হিন্দি ভাষায় শিক্ষাদান কেবল ভাষার শিক্ষকেরই দায়িত্ব নয়, বরং বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরাও এই কাজে যুক্ত থাকবেন।’ এর ফলে হিন্দি শেখানোর দায়িত্ব সব শিক্ষককেই নিতে হবে। ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে হিন্দি ভাষার প্রতি ‘আগ্রহ ও উৎসাহ’ বাড়াতে প্রতিটি স্কুলে একটি ‘ভাষা কক্ষ’-এর বন্দোবস্ত করতে বলা হয়েছে। এই বিশেষ ঘরের দেওয়ালে থাকবে বিখ্যাত হিন্দি সাহিত্যিকদের ছবি, পোস্টার, চার্ট ও ডায়াগ্রাম। এছাড়াও থাকবে একটি রেডিও, টেপ রেকর্ডার ও টেলিভিশন। হিন্দি ভাষায় কবিতা পাঠ, বিতর্ক, প্রবন্ধ লেখা ও সুন্দর হাতের লেখার প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেও বলা হয়েছে নির্দেশে।

Advertisement

হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগে একাধিক দক্ষিণী রাজ্যে আগেই বিতর্কের মুখে পড়েছিল কেন্দ্র। এবার নতুন নির্দেশ জারি হওয়ার পর বিরোধিতা করেছেন অনেক শিক্ষাবিদও। তাঁরা মনে করাচ্ছেন, বহু আদিবাসী পড়ুয়া হিন্দি বলতে পারে না। জানে না। ফলে ক্লাসে হিন্দির এত বাড়বাড়ন্ত থাকলে ওই আদিবাসী পড়ুয়াদের মধ্যে হীনম্মন্যতা তৈরি হতে পারে। আদিবাসী সমাজের ভাষা ও সংস্কৃতিকে ‘হিন্দি আধিপত্যের আওতায়’ আনার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। তবে এনইএসটিএস-এর তরফে জানানো হয়েছে, ‘আদিবাসী পড়ুয়ারা যাতে হীনমন্যতায় না ভোগে সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ তারা আরও জানিয়েছে, ‘যেখানে হিন্দি পাঠ্যসূচি রয়েছে, কেবল সেখানেই এই নির্দেশ প্রযোজ্য।’ যদিও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দেশের সমস্ত একলব্য স্কুলেই এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ হিন্দি বলয়ের বাইরের রাজ্যগুলিতেও এটি কার্যকর হওয়ার পথে।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ