


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ব্রিটিশ আমলের রেলপথ উঠে গিয়েছে বহু বছর আগে। কিন্তু রেখে গিয়েছে একরাশ জটিলতা। তার জেরেই রাজ্য সরকারের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার মেঘ। ব্রিটিশ বেঙ্গল প্রভিনশিয়াল রেলওয়ের জমি বিবাদের জেরে হুগলির মগরায় সরকারি বাড়ি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বহু মানুষ। ইতিমধ্যেই ১৫টি পরিবারের নাম উপভোক্তা তালিকায় থাকলেও বাড়ি তৈরির অনুমোদন পায়নি। কারণ, জমি বিবাদ। একই কারণে অন্তত ১০০টি পরিবার উপভোক্তা তালিকায় জায়গাই পায়নি। সব মিলিয়ে একদিকে যেমন সরকারের নাগরিক কল্যাণের প্রকল্প থমকে গিয়েছে মগরা ১ নম্বর পঞ্চায়েতে, তেমনই বিপন্ন হয়ে উঠেছে গরিব মানুষের বাড়ি প্রাপ্তির স্বপ্ন। তাৎপর্যপূর্ণ এই যে, সমস্যার সমাধানের পথ কেউ দেখাতেও পারছেন না।
হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, মগরায় জমি নিয়ে একটি জটিলতা রয়েছে। ব্রিটিশ বেঙ্গল প্রভিনশিয়াল রেলওয়ের জমিকে এদেশের রেলদপ্তর নিজেদের বলে দাবি করেছে। বহু বছর ধরে সেই জমিতে বসবাস করা মানুষের বাসস্থান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। একাধিক সরকারি প্রকল্প, বিশেষত বাংলার বাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ নিয়ে সমাধান সূত্র বের করার চেষ্টা চলছে। মগরা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রঘুনাথ ভৌমিক বলেন, পঞ্চায়েতকে ওই জটিলতার জন্য বিপদে পড়তে হচ্ছে। মানুষকে বাড়ি দেওয়া যাচ্ছে না, অথচ তাঁদের বাড়ি পাওয়ার সব রকমের যোগ্যতা আছে। তাতে আমাদের রোষের মুখে পড়তে হচ্ছে। জানি না, এই সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে। এ নিয়ে রেলের স্থানীয় কর্তারা মুখ খুলতে চাননি। তবে ব্যান্ডেল-বাঁশবেড়িয়া শাখার এক অফিসার বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তাদের নির্দেশে সম্প্রতি আমরা বেঙ্গল প্রভিনশিয়াল রেলওয়ের জমি মাপজোক করতে গিয়েছিলাম। বিষয়টি স্থানীয়স্তরে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মেটানো কঠিন। রেলদপ্তর ও রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ স্তর থেকেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ করতে হবে।
এককালে হুগলিতে ব্রিটিশ বেঙ্গল প্রভিনশিয়াল রেল কোম্পানি রেল পরিষেবা দিত। সেই রেলপথ মগরা দিয়ে তারকেশ্বরকে জুড়েছিল। মগরার কোলা থেকে মগরাগঞ্জকে জুড়েছিল একটি সাঁকো। সেই সাঁকোর আশপাশের জমি ও সেখানকার বসতি নিয়েই তৈরি হয়েছে জটিলতা। সাবেক বেসরকারি রেলের জমি নিয়ে বর্তমান রেলদপ্তরের সংঘাত যে জট তৈরি করেছে, তার আদর্শ উদাহরণ মগরার সিং পরিবার। সামান্য ডানে-বাঁ’য়ে থাকেন সিং পরিবারের কর্তা ফেকন সিং ও ছেলে প্রদীপ সিং। ছেলে প্রদীপ এবার বাংলার বাড়ি পেয়েছেন। কিন্তু সামান্য দূরে বিতর্কিত জমির বাসিন্দা হওয়ায় বৃদ্ধ ফেকন সিং মাথার উপরে ছাদ জোটাতে পারেননি। এমনই হাল সেখানকার শতাধিক পরিবারের। হারিয়ে যাওয়া এক রেলপথ সরকারি উন্নয়নের কাজের মাঝে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।