


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতিতে, শান্তির বাতাবরণ তৈরিতে ভারত সরকারকে উদ্যোগী হয়ে এবং অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে পদক্ষেপ করা উচিত। মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে মমতার কথায় উঠে আসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ। ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’—আওয়াজ সর্বজনবিদিত। এই আবহেই এদিন বার্তা দেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বিদেশনীতির বিষয়ে আমি কোনও মতামত দিতে পারি না, ওটা কেন্দ্রের বিষয়। আমি কেন্দ্রের সরকারকে কোনও উপদেশ দিতে পারি না। কিন্তু আমার মনে হয় যেটা করা উচিত... আমি বলব, যুদ্ধকালীন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে ডিপ্লোম্যাটিক্যালি (কূটনৈতিকভাবে) এবং পিসফুলি (শান্তিপূর্ণভাবে) একটি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। যত মৃত্যু হচ্ছে, তাতে তো মানুষের রক্ত যাচ্ছে। এই পৃথিবী একটাই দেশ। কথা, ভাষা আলাদা কিন্তু আকাশ একটা। আমরা সবাই এক।’
শান্তির যে বার্তা মমতা এদিন দিয়েছেন, তার সপক্ষে যুক্তিও দেখিয়েছেন তিনি। যুদ্ধের ফলে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা সকলেই জানেন। এখানেই মমতার বক্তব্য, ‘একদিকে আমরা দূষণমুক্তির কথা বলব, অন্যদিকে সমুদ্র, আকাশে দূষণ ছড়িয়ে পড়বে। দূষণ হয়ে গেলে প্রকৃতি ক্ষমা করে না। একদিন সবেতেই ধস নেমে যাবে, ধ্বংস হয়ে যাবে সবটাই। এই পৃথিবীতে যুদ্ধ হবে হবে করে এমনিতেই যুদ্ধ হচ্ছে। আকাশদূষণ হচ্ছে একদিকে। গ্লোবাল ক্যালামিটি চলছে একদিকে। আর-একদিকে প্রকৃতিকে ধ্বংস করা হচ্ছে। সমুদ্রে, জলে, আকাশে যদি আগুন জ্বলে তবে তা থেকে ক্ষতি হচ্ছে সারা বিশ্বের। ফলে যুদ্ধ যে দেশগুলির মধ্যেই হোক না কেন, তার প্রভাব সুদূর প্রসারিত হতে বাধ্য। সামাজিকজীবনে তার প্রভাব পড়ে বিরাট মাত্রায়।’ মমতা আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, যুদ্ধ নেমেছে পৃথিবীজুড়েই। এর আঁচ পরিবেশের উপর পড়বে। আকাশ বাতাস জল সব ক্ষেত্রেই দূষণ হবে। আজকে বিমানে কিংবা ট্রেনে চড়তে লোকে ভয় পাচ্ছে। বিমানের ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ হয় না।’
শান্তির বার্তা নিয়ে ভারত সরকারের তরফে মমতা অতীতেও পদক্ষেপ করেছেন। তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি ছোট্ট একটি জায়গায় কাজ করি, আমার রাজ্যের স্বার্থ দেখার যেমন এক্তিয়ার আছে, তেমনি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের নৈতিক দায়িত্বও আছে। ভারত সবসময় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী যখন ছিলেন, তখন আমাকে আর আনন্দ শর্মাকে পাঠানো হয়েছিল একটি বিষয়ে। সেদিন কী সাহায্য করেছি, সেটা দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে আজ বলব না।’