Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

আদিবাসী ও প্রথম ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহ দিতে খেলার আয়োজন কমিশনের, উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল

‘খেলাব মাইয়া।’ চা বাগানের আদিবাসী মহিলাদের জন্য এই নামেই এক ঘরোয়া, গ্রাম্য খেলার আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন। মিউজিক্যাল চেয়ারের আদলে পাশাপাশি বসে একজনের হাত থেকে অন্য হাতে বল পাস করানো, চু-কিতকিত, এক পায়ে দৌড় ইত্যাদির মতো খেলা।

আদিবাসী ও প্রথম ভোটারদের ভোটদানে  উৎসাহ দিতে খেলার আয়োজন কমিশনের, উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ‘খেলাব মাইয়া।’ চা বাগানের আদিবাসী মহিলাদের জন্য এই নামেই এক ঘরোয়া, গ্রাম্য খেলার আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন। মিউজিক্যাল চেয়ারের আদলে পাশাপাশি বসে একজনের হাত থেকে অন্য হাতে বল পাস করানো, চু-কিতকিত, এক পায়ে দৌড় ইত্যাদির মতো খেলা। একইভাবে প্রথমবারের ভোটারদের জন্য ফুটবল ম্যাচ। পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার সহ পাহাড়ি অঞ্চলে, আদিবাসী এলাকায় ভোট সচেতনতার নামে বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছে কমিশন। আর সেই উদ্যোগ নিয়েই রাজনৈতিক মহলে উঠছে প্রশ্ন। 

Advertisement

কারণ, স্রেফ ভোট সচেতনতার নামে খেলা বা অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে কথা ছিল না। বিতর্কের কারণ হল, খেলা শেষে অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া হচ্ছে উপহার। যারা খেলায় জিতছে, তাদের দেওয়া হচ্ছে রান্নার তেল, চায়ের প্যাকেট, মাজন, ময়দা, চিনির প্যাকেট। এমনকি কাঁচা শাকসব্জিও। সেসব পেয়ে প্রথমবারের ভোটার, আদিবাসী মহিলারা অত্যন্ত খুশি বলেই জানিয়েছে কমিশন। আলিপুরদুয়ারের পানিঝোরায় কয়েকদিন আগেই এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করে ভোটারদের উৎসাহ বাড়াতে দিল্লি থেকে কমিশনের কর্তাব্যক্তিরা গিয়েছিলেন। 
প্রশ্ন হল, যে কমিশন নির্বাচনের সময় ভোটারদের প্রভাবিত করার বিষয়টিতে রাজনৈতিক দলগুলির ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, বিনামূল্যে কোনো কিছু দেওয়া মানা, সেখানে খোদ নির্বাচন কমিশন এহেন উদ্যোগ কীভাবে নেয়? পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের ভোটারের সংখ্যা ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ২২৯ জন। ২০-২৯ বছর বয়সি ভোটার ১ কোটি ৩১ লক্ষ। আদিবাসী অধ্যুষিত কেন্দ্র ১৬। ফলে এই ব্যাপক সংখ্যক ভোটারদের যে কোনো একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের হয়ে নেপথ্যে প্রচার করছে না কমিশন, গ্যারান্টি কোথায়? কেন দেওয়া হচ্ছে উপহার? ভোট সচেতনতার নামে ভোটারদের কানে ফুস-মন্তর দেওয়া হচ্ছে না, তারই বা নিশ্চয়তা কোথায়? সওয়াল খাড়া করেছে তৃণমূল।
দলের লোকসভার মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষদস্তিদার ‘খেলাব মাইয়া’র কথা জেনে অভিযোগের সুরে বলেন, ভোট সচেতনতার নামে সরল আদিবাসী মহিলাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে কমিশন। নবীন ভোটারদেরও প্রভাবিত করা হচ্ছে। জ্ঞানেশ কুমারের কমিশন এমনিতেই বিজেপির বি-টিম। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই সে কথা বলেছেন।  তাই ভোট সচেতনতার মোড়কে আদতে আদিবাসী এবং প্রথমবারের ভোটারদের বিজেপির প্রতি প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ‘ভোটের পর্ব, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব’ স্লোগানে ভোটদানে উৎসাহ বাড়াতেই এই কর্মসূচি। এর সঙ্গে কাউকে কোনোভাবে প্রভাবিত করার প্রশ্নই ওঠে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ