Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তন কেড়ে নিয়েছে ‘শীতঘুম’, ঠান্ডাতেও সাপের ছোবলে মৃত ১৩

শীতকালে সাপের ছোবলে মৃত্যুর খবর সচরাচর শোনা যায় না। প্রাকৃতিক কারণেই ঠান্ডা বাড়লে নিষ্ক্রিয় হয় সর্পকূল। শীতঘুমে চলে যায়।

জলবায়ু পরিবর্তন কেড়ে নিয়েছে ‘শীতঘুম’, ঠান্ডাতেও সাপের ছোবলে মৃত ১৩
  • ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:০১
Prefer us on Google

দেরাদুন: শীতকালে সাপের ছোবলে মৃত্যুর খবর সচরাচর শোনা যায় না। প্রাকৃতিক কারণেই ঠান্ডা বাড়লে নিষ্ক্রিয় হয় সর্পকূল। শীতঘুমে চলে যায়। কিন্তু এবার সেই হিসাব মিলছে না। বরং চলতি শীতকালে উত্তরাখণ্ডে সাপের ছোবলে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত ৫০ দিনে হিমালয়ের কোলের এই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সাপের ছোবলে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও কয়েকজন। এই ঘটনার নেপথ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। 

Advertisement

বন দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, সাধারণত শীতকালে সাপ বাইরে বেরোয় না। তারা সুপ্ত অবস্থায় চলে যায়। বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলে ‘হাইবারনেশন’ বা শীতঘুম। স্বাভাবিকভাবেই এই সময় মানুষের সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা প্রায় থাকে না।  কিন্তু এ বছর চেনা ছন্দে নেই শীত।  ঠান্ডা তেমন পড়েনি। উত্তরাখণ্ডের বেশ কিছু জায়গার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। তাই শীতকালেও বিষধর সাপ সক্রিয় রয়েছে। খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে তারা। গ্রামাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় এই সমস্যা মারাত্মক আকার নিয়েছে। 
রাজ্যের বনমন্ত্রী জানিয়েছেন, জঙ্গল সংলগ্ন এলাকার মানুষজনকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। বন দপ্তর ইতিমধ্যেই মানুষকে সচেতন করতে প্রচার শুরু করেছে। সাপ কামড়ালে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, গ্রামবাসীদের রাতে আলো ছাড়া বাইরে না বেরোনো এবং ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু আবহাওয়ায় নয়, বন্যপ্রাণীর আচরণেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। আর সেই কারণে শীতকালেও সাপের ছোবলে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ