নয়াদিল্লি: বঙ্গোপসাগর থেকে ভারতের উপর কি চুপিসাড়ে নজরদারি চালাচ্ছে চীন? সম্প্রতি চীনের একটি জাহাজের গতিবিধি নিয়ে এমনই প্রশ্ন উঠছে। গবেষণার নাম করে ওই জাহাজটি ভারতীয় উপকূলের কাছাকাছি চলে এসেছিল বলে তথ্য পেয়েছে ফরাসি উপগ্রহ নজরদারি সংস্থা ‘আনসিনল্যাবস’। তারা জানিয়েছে, চীনের ওই রিসার্চ ভেসেলটি গত মাসে বেশ কয়েকদিন ভারতের পূর্ব উপকূল থেকে মাত্র ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরে এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের কাছে অবস্থান করছিল। ওই জায়গা থেকে ভারতীয় নৌবাহিনী ও সাবমেরিনের উপর নজরদারি চালানো কঠিন কিছু নয়। ওই উপকূলেই ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কেন্দ্র ও ইস্টার্ন নাভাল কমান্ডের প্রধান কেন্দ্র রয়েছে। জাহাজটি ওই এলাকায় যতদিন ছিল, ততদিন অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) বন্ধ করে রেখেছিল। সাধারণত কোনও জাহাজ শত্রুদেশের নজর এড়াতেই এমন কাজ করে থাকে। তাই ওই জাহাজটির উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ আরও বেড়েছে।
ফরাসি সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা বঙ্গোপসাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলির উপর ১৬ দিন ধরে একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল। উপগ্রহভিত্তিক রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বিচার করে দেখা গিয়েছে ১ হাজার ৮৯৭টি জাহাজের মধ্যে ১০ শতাংশ জাহাজই তাদের এআইএস বন্ধ করে রাখে। কিন্তু তার মধ্যেও নজর কেড়েছে চীনা জাহাজটি। উপগ্রহ তথ্য বলছে, ওই জাহাজটি সমুদ্রের তলদেশ জরিপ (সি ফ্লোর ম্যাপিং), অ্যাকুয়িস্টিক প্রোফাইলিং, সাবমেরিন চলাচলের করিডরের মতো বিষয় নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে। সামরিক ক্ষেত্রেও এই সব তথ্যের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে সাবমেরিন নিয়ে লড়াইয়ের সময় সি ফ্লোর ম্যাপিং ও অ্যাকুয়িস্টিক প্রোফাইলিং নৌসেনার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়। বেজিং যেভাবে ভারতীয় উপমহাদেশে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে উঠেপড়ে লেগেছে, তাতে এসব সংবেদনশীল তথ্য ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
চলতি বছরের শুরুতেও আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছে চীনের একটি যুদ্ধজাহাজ প্রায় তিন মাস নোঙর করেছিল। গত বছরেও অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় চীনের যুদ্ধজাহাজকে ভারতীয় উপকূলের কাছে দেখা গিয়েছিল। যদিও বেজিং বারবারই দাবি করেছে, তারা সমুদ্র নিয়ে গবেষণার জন্যই এই জাহাজগুলি পাঠিয়ে থাকে। ভারতীয় সেনাবাহিনী সূত্রেও চীনা জাহাজের উপস্থিতির কথা স্বীকার করা হয়েছে। সেনা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, জাহাজটির উপর তাঁরাও পাল্টা নজরদারি চালিয়েছেন। সেটির গতিবিধির উপর প্রতিনিয়ত চোখ রাখা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন ওই আধিকারিকরা।