


লখনউ: ধর্মীয় কার্যকলাপের আড়ালে অনৈতিক কাজকর্মে অভিযুক্ত ‘ছাঙ্গুর বাবা’ ওরফে জামালুদ্দিন সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। উত্তরপ্রদেশ পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) জানতে পেরেছে, প্রভাব বিস্তারের জন্য ছাঙ্গুর বাবা নিজেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) অনুমোদিত সংগঠনের সদস্য বলে পরিচয় দিতেন। এমনকী লেটারহেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবিও ব্যবহার করতেন। উত্তরপ্রদেশের বলরামপুর জেলার মধুপুরে বিরাট এলাকাজুড়ে রয়েছে ছাঙ্গুর বাবার আস্তানা। সেখানে হিন্দু সহ অন্য অ-মুসলিমদের সম্প্রদায়ের মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করা হত বলে অভিযোগ। তারপরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই সরকারি জমিতে তৈরি ছাঙ্গুর বাবার প্রাসাদটি ভেঙে দিয়েছে যোগী প্রশাসন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছাঙ্গুর বাবাকেও। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন ভারত প্রতিকার্থ সেবা সঙ্ঘ নামে একটি সংস্থা ছাঙ্গুর বাবাকে সাধারণ সচিবের পদে বসিয়েছিল। যদিও ওই সংস্থাটি অপর অভিযুক্ত আইদুল ইসলাম বেনামে চালাত। নিজেদের দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে নাগপুরে সংস্থাটির একটি ভুয়ো কেন্দ্রও প্রতিষ্ঠা করা হয়। উল্লেখ্য, আরএসএসের সদর দপ্তর রয়েছে নাগপুরেই।
তদন্তে উঠে এসেছে, ছাঙ্গুর বাবা ও আইদুল সরকারি আধিকারিক বা রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় আরএসএসের একাধিক শীর্ষ নেতার নাম নিতেন। ফলে এতদিন ধরে ধর্মান্তকরণ চালিয়ে গেলেও ছাঙ্গুর বাবার বিরুদ্ধে কেউ পদক্ষেপ করেনি। এসটিএফ জানিয়েছে, স্থানীয় আধিকারিকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বেআইনিভাবে প্রচুর জমিও কিনেছে আইদুল। উত্তরপ্রদেশ পুলিসের সন্ত্রাসদমন শাখা (এটিএস) জানিয়েছে, বিদেশ থেকে অর্থ সাহায্য নিয়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা ছিল ছাঙ্গুর বাবার। পাকিস্তান ও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে অন্তত ৫০০ কোটি টাকা তাঁর কাছে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-ও আলাদা তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে ছাঙ্গুর বাবার ১০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তি রয়েছে। বেশিরভাগই সরকারি জমি দখল করে তৈরি।