


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় চার বছর পর রাজ্য সরকারগুলিকে ওপেন মার্কেট সেল স্কিমে (ওএমএসএস) গম বিক্রি ফের শুরু হতে পারে। গত মাসে দিল্লিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রকের সচিবদের কমিটির পর্যালোচনা বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রককে এ ব্যাপারে প্রস্তাব পাঠানোর কথা বলেছে কমিটি। প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকার অনেকদিন ধরে চাইছে, গম বিক্রি করা শুরু হোক। এটা হলে রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকা প্রায় ৩ কোটি রেশন গ্রাহককে গমও দেওয়া যাবে। এখন এই রেশন গ্রাহকদের শুধু চাল দেওয়া হয়।
২০২১ সাল পর্যন্ত রাজ্য সরকারগুলি ওপেন মার্কেট সেল স্কিমে নির্ধারিত দামে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা এফসিআই থেকে গম কিনতে পারত। তারপর এটা বন্ধ করে দেওয়া হলেও এই স্কিম চালু থাকে। কেন্দ্রীয় সরকারি কয়েকটি সংস্থার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ই-অকশনের মাধ্যমে গম বিক্রি করা চলতে থাকে। তারা সেই গম ভাঙিয়ে আটা উৎপাদন করে সাধারণ মানুষকে বিক্রি করত। কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলি কত দামে আটা বিক্রি করবে, সেটা সরকারের তরফে ঠিক করে দেওয়া হলেও ব্যবসায়ীদের উপর এরকম কোনও বিধিনিষেধ ছিল না। ফলস্বরূপ খোলাবাজারে আটার দাম গত কয়েক বছরে অনেকটা বেড়েছে। যদিও কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, খোলাবাজারে আটার দাম কমানোর জন্যই ওপেন সেল স্কিমে গম বিক্রি করা হচ্ছে।
এবার ওপেন সেল স্কিমে বিক্রির নীতি পরিবর্তন হতে পারে। কারণ, কেন্দ্রীয় সরকারের মজুত ভাণ্ডারে প্রচুর পরিমাণ গম জমে রয়েছে। ২০২৫ সালে সরকারি উদ্যোগে দেশে চাষিদের কাছ থেকে রেকর্ড ৩ কোটি টন গম কেনা হয়েছে। আর কয়েক মাসের মধ্যে নতুন গম উঠতে শুরু করলেই সরকার তা কিনতে শুরু করবে। পশ্চিমবঙ্গ সহ অনেকগুলি রাজ্যে জানুয়ারি থেকে জাতীয়
খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের গ্রাহকদের মাথাপিছু চালের পরিমাণ এক কেজি কমিয়ে সম পরিমাণ গম দেওয়া শুরু হয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ একাধিকবার জানিয়েছেন, এফসিআই গম বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য রাজ্য প্রকল্পের আওতায় থাকা রেশন গ্রাহকদের তা দেওয়া যাচ্ছে না। এটা চালু করার জন্য অনেকবার কেন্দ্রকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, রাজ্যের রেশন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ গম চাইলেও দেওয়া যায় না। গম দিতে পারলে রাজ্য সরকারের আর্থিক সাশ্রয় হবে। কারণ, চালের তুলনায় গমের জন্য খরচ কম হবে সরকারের।