নয়াদিল্লি: ‘ব্যাঙ্কের সমস্ত ঋণ মিটিয়ে দিয়েছি। তারপরও আমাকে হেনস্তা করা হচ্ছে।’ সম্প্রতি একটি পডকাস্ট বা সাক্ষাৎকারে এমনই দাবি করেছিলেন পলাতক ব্যবসায়ী বিজয় মালিয়া। কয়েকদিনের মধ্যেই সেই ঋণ পরিশোধের কথাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে কিছু টাকা আদায় হয়েছে ঠিকই। কিন্তু তারপরও সুদ ও অন্যান্য চার্জ বাবদ ৬৯৯৭ কোটি বকেয়া রয়েছে ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলির।
সম্প্রতি এক ইউটিউবারকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে মালিয়া বলেন, দে‘শ ছেড়ে চলে গিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি কোনও চুরি করিনি।’ তাঁর নামের আগে ‘চোর’ শব্দটি বসানো নিয়ে আপত্তি জানান। এপ্রসঙ্গে সরকারি এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মালিয়া ১৪ হাজার কোটি পরিশোধ করার যে দাবি করেছেন, তার সঙ্গে বাস্তবের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি সম্ভবত মূল ঋণের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে ওই দাবি করেছেন। কিন্তু কোনও ঋণ পুরোপুরি শোধ না হওয়া পর্যন্ত সুদ দিতে হয় গ্রাহকদের। তাছাড়া ঋণ খেলাপিদের ক্ষেত্রে জরিমানাও আরোপ করা হয়। ২০১৩ সালে মালিয়ার বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির মামলা দায়ের করে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক। তাঁর বিরুদ্ধে ৬৮৪৮ কোটি টাকা ঋণ খেলাপির অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে সেই টাকার অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৭৮১ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে মালিয়ার স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় হয়েছে ১০৮৫১ কোটি টাকা। এরপরও মালিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৬৯৯৭ কোটি টাকা উদ্ধার করতে পারেনি ব্যাঙ্কগুলি।