


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ওয়ার্ড সংখ্যা সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত পুর নির্বাচন সম্পন্ন করতে হাওড়া পুরসভা আইনে ফের সংশোধনী আনতে চলেছে রাজ্য। এই সংশোধনী আনতে গেলে রাজ্য মন্ত্রিসভার ছাড়পত্র প্রয়োজন। বুধবার মন্ত্রিসভা সেই ছাড়পত্র দিয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। প্রশাসনিক মহল মনে করছে, আইনে এই সংশোধনী যুক্ত হলেই দীর্ঘদিন আটকে থাকা হাওড়া পুরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে।
কেন ফের সংশোধনী আনার প্রয়োজন পড়ল? ২০১৫ সালে হাওড়া পুরসভার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল বালি পুরসভাকে। ফলে হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বেড়ে হয়েছিল ৬৬। সেই অনুযায়ী আইন সংশোধন করা হয়েছিল। কিন্তু, ২০২১ সালে বালিকে ফের আলাদা করে দেওয়ায় হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা কমে হয় ৫০। সেই মতো হাওড়া পুরসভা আইনে ওয়ার্ড সংখ্যা কমাতে ফের সংশোধনী আনতে হয়। সেই বিল বিধানসভায় পাশ হয়ে গেলেও রাজভবনে গিয়ে দীর্ঘদিন পড়ে থাকে। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়ে হাওড়া পুরসভার ৫০টি ওয়ার্ডকে ভেঙে (দীর্ঘমেয়াদি ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে) ৬৬টি ওয়ার্ডে পরিণত করে রাজ্য। তারপর হাওড়াবাসী মনে করেছিল, এবার পুরভোট হওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু কয়েক মাস আগে বছরের পর বছর পড়ে থাকা বিলে সম্মতি দেয় রাজভবন। ফলে গোটা বিষয়টি নতুন করে জটিলতার আবর্তে পড়ে। কারণ, ততদিনে ডিলিমিটেশন করে হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৬৬ করে ফেলা হয়েছে। অথচ, রাজভবন বিল পাশ করে দেওয়ায় হাওড়া পুরসভা আইনে ওয়ার্ড সংখ্যা হয়ে যায় ৫০। সেই কারণে ১৯৮০ সালের হাওড়া পুরসভা আইনে ফের সংশোধনী আনতে হচ্ছে। আইনে এই সংশোধন হয়ে গেলে ওয়ার্ড সংখ্যা ফের হবে ৬৬। এই অবস্থায় বিধানসভায় সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার পর রাজভবন তাতে দ্রুত অনুমোদন দিলে নির্বাচন করানোর ক্ষেত্রেও আর কোনও আইনি জটিলতা থাকবে না বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ আমলারা।
কিন্তু কেন আরও একবার ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে ওয়ার্ড সংখ্যা কমিয়ে ৫০ না করে আইন সংশোধনের পথে যাচ্ছে রাজ্য? প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন, ডিলিমিটেশন অর্থাৎ একটি এলাকার পুনর্বিন্যাস করা। এর জন্য এলাকা সার্ভে থেকে শুরু করে সংরক্ষণের প্রক্রিয়া সহ নানা পদ্ধতিগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যা যথেস্ট জটিল ও সময়সাপেক্ষ। তার থেকে আইনে সংশোধনী এনে জটিলতা মিটিয়ে ফেলতে পারলে অনেকটা সময় বাঁচবে। এক্ষেত্রেও অবশ্য রাজভবন কত দ্রুত বিলে সই করে, তার উপর নির্ভর করছে সবকিছু।