Bartaman Logo
১২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দু’বছর ধরে ঝাড়গ্ৰাম-নয়াগ্রাম রুটের সরকারি বাস পরিষেবা বন্ধ, ভোগান্তি

দু’বছর ধরে ঝাড়গ্ৰাম-নয়াগ্রাম রুটের সরকারি বাস পরিষেবা বন্ধ, ভোগান্তি
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: রাজ্যের শেষ প্রান্ত নয়াগ্ৰাম ব্লক। সীমানা পেরলেই প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি বাস পরিষেবা চালু আছে। তবে, দু’বছর ধরে নয়াগ্ৰাম যাওয়ার সরকারি বাস পরিষেবা বন্ধ। বেসরকারি বাস নির্দিষ্ট সময় মেনে চলাচল করে না। ফলে, চরম দুর্ভোগে পড়ছেন নয়াগ্ৰামের বাসিন্দারা। 

Advertisement

জেলার সবচেয়ে দূরের এলাকা নয়াগ্ৰাম ব্লক। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে ৭০-৮০কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে সেখানে পৌঁছতে হয়। জেলাশাসক ও এসডিও অফিস, আদালত, ইউনিভার্সিটি যেতে গেলে দীর্ঘ রাস্তা পেরতে হয়। বিভিন্ন কাজে ব্লকের বাসিন্দাদের শহর থেকে ফিরতে হয়। বিকেলে বাড়ি ফেরার বাস ধরলে রাত হয়ে যায়। অনেকেই শহরে রাত কাটাতে বাধ্য হন। বেসরকারি বাস নির্দিষ্ট সময়ে চলাচল না করায় নিত্যযাত্রীদের দু’বছর ধরে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সরকারি বাস পরিষেবা চালু ও নির্দিষ্ট সময়ে বেসরকারি বাস চলাচলের দাবি জানানো হচ্ছে। জেলাশাসকের কাছে লিখিত দাবি জানানো হয়েছে। তারপরেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ঝাড়গ্ৰাম থেকে নয়াগ্ৰাম রুটে খড়িক, গোপীবল্লভপুর হয়ে বালিগেড়িয়া এবং ঝাড়গ্রাম থেকে মেদিনীপুর হয়ে খড়িকামাথানি যাওয়ার সরকারি বাস বন্ধ। এছাড়াও, ঝাড়গ্রাম থেকে হাতিবাড়ি, গোপীবল্লভপুর ও ঝাড়গ্রাম থেকে গিধনি হয়ে মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম থেকে তপসিয়া ফেকো হয়ে বেলিয়াবেড়া, ঝাড়গ্রাম থেকে লোধাশুলি হয়ে ছাতিনাশোল যাওয়ার সরকারি বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আগে যাতায়াতের জন্য এই বাসগুলি নয়াগ্রামের বাসিন্দারা ব্যবহার করতেন। নয়াগ্ৰাম রুটের যাত্রীদের আরও অভিযোগ, বেসরকারি বাসগুলি স্টপেজ নিয়ম ভেঙে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে। যার জেরে যাতায়াতে সময় বেশি লাগছে। ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক সময় নিয়ম মানা হচ্ছে না। 
নয়াগ্ৰামের খড়িকামাথানি এলাকার বাসিন্দা মনোরঞ্জন মাহাত বলেন, জেলাশাসককে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে সরকারি বাস চালানোর জন্য। বেসরকারি বাস যাতে নির্দিষ্ট সময়ে চলে তা দেখার জন্যও বলা হয়েছিল। প্রতিটি স্টপেজে টাইম টেবিলের চার্ট লাগিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনিক নানা কাজে ব্লকের বাসিন্দাদের শহরে যেতে হয়। দেরি হলে কাজ ফেলে বাস ধরতে হয়। না হলে শহরে রাত্রিবাস করতে হবে। প্রশাসনের উদাসীনতার শিকার হচ্ছেন নয়াগ্ৰামের বাসিন্দারা।
নয়াগ্ৰামের ধুমসাই বিদ্যাভারতী এসসি হাইস্কুলের শিক্ষক পঙ্কজ মাহাত বলেন, আমার বাড়ি ঝাড়গ্রাম শহরে। শিক্ষকতার জন্য নিয়মিত ধুমসাইয়ে যেতে হয়। সরকারি বাস যতদিন চলেছিল, সমস্যা ছিল না। বেসরকারি বাসের যাতায়াতের নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। বিভিন্ন পেশার মানুষকে রোজ নয়াগ্ৰামে যেতে হয়। তাঁরা যৌথভাবে গাড়ি ভাড়া করে যান। যাতায়াতের জন্য বেশি টাকা খরচ করতে হয়। এছাড়া, অন্য কোনও উপায় নেই।  ঝাড়গ্রাম জেলা বাস পরিবহণ তৃণমূল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হরিশঙ্কর মাহাত বলেন, ঝাড়গ্রাম থেকে নয়াগ্ৰামের খড়িকামাথানিতে একটি, ধুমসাইয়ে ছ’টি, বালিগেড়িয়ায় তিনটি বেসরকারি বাস চলে। কাঁথি ও দীঘা যাওয়ার বাস নয়াগ্ৰামের উপর দিয়ে যাতায়াত করে। বাসগুলি দেরিতে চলার অভিযোগ পেয়ে ইউনিয়নের তরফে জেলা আরটিও অফিসে অভিযোগ করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ