নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: গলসির জুজুটিতে দামোদরের উপর সেতু তৈরির জট কাটল না। সেখানেই বর্ধমান পুরসভার জল প্রকল্প রয়েছে। ওই এলাকায় সেতু তৈরি হলে বর্ধমানের জল প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে যাবে এমনই দাবি কর্তৃপক্ষের। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুজুটিতে সেতু তৈরির নকশা তাদের আগে থেকেই তৈরি ছিল। সেখানে সেতু না হলে টেকনিক্যাল সমস্যা হতে পারে। জট কাটাতে সোমবার প্রশাসন বর্ধমান পুরসভা ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষর সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে মহকুমা শাসক তীর্থঙ্কর বিশ্বাস, পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার, বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পুরসভার তরফে জানানো হয়, নদীতে প্ল্যান্ট তৈরির কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। সেটি অন্যত্র সরাতে গেলে শহরের জলের সঙ্কট দেখা দিতে পারে। বৈঠকে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানায়, পুরো প্রকল্প সরানোর দরকার হবে না। কিছুটা অংশ সরালেই হবে। তারজন্য তারা খরচ দেবে। কিন্তু, এই প্রস্তাবে পুরসভা রাজি হয়নি। তারা দামোদরের অন্যত্র সেতু তৈরির পরামর্শ দেয়। বৈঠকে থাকা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আধিকারিকরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে বলে জানিয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, জুজুটি থেকে জল প্রকল্প সরানো সম্ভব নয়। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ কিছুটা অংশ সরানোর জন্য বলছে। সেটা করতে হলে শহরে দু’মাস পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দেবে। তার দায় কে নেবে? বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক বলেন, ৪০ হাজারের বেশি বাড়িতে আম্রুত প্রকল্পে পানীয় জল পৌঁছে গিয়েছে। এখন কোনওভাবেই জল প্রকল্প সরানো সম্ভব নয়। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ দামোদরের অন্য কোথাও সেতু তৈরি করুক। আমাদের কোনও অসুবিধা নেই।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘ভারত মালা’ প্রকল্পে খড়্গপুর থেকে মোড়গ্রাম পর্যন্ত জাতীয় সড়ক তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বধর্মানের আটটি ব্লকের উপর দিয়ে এই জাতীয় সড়ক যাবে। তারজন্য দামোদরে সেতু তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জমি চিহ্নিত করণের সময় থেকে জুজুটিতে সেতু তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। তখন পুরসভার জলপ্রকল্প সেখানে হয়নি। টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে অন্যত্র সেতু তৈরি করা সম্ভব হবে না। কোনও কারণে সেতু তৈরি না করা গেলে বড় প্রকল্পের কাজ থমকে যেতে পারে। যদিও জেলা প্রশাসনের দাবি, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে সবরকমভাবে সহযোগিতা করা হবে। তৈরি হওয়া জট কেটে যাবে।



