Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

পোস্ট শেয়ার করায় ছাত্রীকে গ্রেপ্তার, মহারাষ্ট্র সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা বম্বে হাইকোর্টের

অপারেশন সিন্দুর পরবর্তী ভারত-পাকিস্তান সংঘাত নিয়ে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট শেয়ার করেছিলেন পুনের এক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রী। এমনই অভিযোগে ১৯ বছরের ওই পড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিস।

পোস্ট শেয়ার করায় ছাত্রীকে গ্রেপ্তার, মহারাষ্ট্র সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা বম্বে হাইকোর্টের
  • ২৮ মে, ২০২৫ ১৫:০৫
Prefer us on Google

মুম্বই: অপারেশন সিন্দুর পরবর্তী ভারত-পাকিস্তান সংঘাত নিয়ে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট শেয়ার করেছিলেন পুনের এক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রী। এমনই অভিযোগে ১৯ বছরের ওই পড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। বহিষ্কার করা হয় কলেজ থেকেও। এই ঘটনায় মহারাষ্ট্র সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করল বম্বে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার আদালত প্রশ্ন তোলে, কেউ নিজের মতপ্রকাশ করলেই কি তাঁর জীবন নষ্ট করে দেওয়া যেতে পারে? একজন ছাত্রীর জীবন নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কলেজের ‘উগ্র’ মানসিকতা একজন ছাত্রীকে অপরাধী বানিয়ে দিয়েছে। এর ফল তাঁকে ভুগতে হয়েছে।  ধৃতের আইনজীবীকে অবিলম্বে জামিনের জন্য আবেদন করতে নির্দেশ দেয় আদালত। এদিন জামিন মঞ্জুরও হয়েছে।

Advertisement

ইনফরমেশন টেকনোলজির দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী ৭ মে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। সেই পোস্টে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর জন্য ভারত সরকারের সমালোচনা করা হয়। এরপরই ওই ছাত্রী একের পর এক হুমকি পেতে শুরু করেন। ভয় পেয়ে দু’ঘণ্টা পর ওই পোস্ট সরিয়েও দেন। কলেজেও প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় তাঁকে। ৯ মে কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্রীটিকে বহিষ্কার করে। কারণ হিসেবে বলা হয়, ওই ছাত্রী দেশবিরোধী মনোভাব প্রচার করছেন। ওই দিনই এফআইআরের ভিত্তিতে ছাত্রীকে গ্রেপ্তার করে কন্ধোয়া পুলিস। নিম্ন আদালত জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় তাঁর ঠাঁই হয় পুনের ইয়েরওয়াড়া জেলে।
এরপর ধৃত ছাত্রী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সেখানে ছাত্রী জানান, কোনও খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে ওই পোস্ট শেয়ার করেননি এবং সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমাও চেয়েছেন। কলেজ যেভাবে তাঁকে বহিষ্কার করেছে, তা একতরফা ও বেআইনি। পুরো ঘটনায় তাঁর মৌলিক অধিকার ভঙ্গের দাবিও করেন তিনি। মামলার শুনানিতে বিচারপতি গৌরী গডসে ও বিচারপতি সোমশেখর সুন্দরেশনের অবসরকালীন বেঞ্চে বলে, ওই ছাত্রীর যা বয়স, তাতে ভুল করা স্বাভাবিক। তিনি ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমাও চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে সংশোধনের সুযোগ না দিয়েই রাজ্য সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে অপরাধী বানিয়ে দিয়েছে। সরকার পড়ুয়াদের মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। 
জাতীয় স্বার্থেই ছাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে যুক্তি দেন সরকারি আইনজীবী। যদিও তা ধোপে টেকেনি। একটি পোস্টের জন্য জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারে না বলে মন্তব্য করে বেঞ্চ। রাজ্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কলেজকেও ভর্ৎসনা আদালত বলেছে, ছাত্রীকে শাস্তি না দিয়ে, আগে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ