


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: গত ২৬ মার্চ রাতে মেঘনা মিলের কাছে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন মহম্মদ সাদ্দাম নামে এক যুবক। ওই গুলি কান্ডে অভিযোগ উঠেছিল প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংহের বিরুদ্ধে। তিনি যে ঘটনাস্থলে ছিলেন তার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছিল। তিনি নিজে গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করেছেন। সেই জগদ্দল গুলি কাণ্ডে প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংহের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করল বারাকপুর এসিজেএম আদালত।
ওই কেসে জগদ্দল থানার তদন্তকারী অফিসার মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল মঙ্গলবার বিচারক মনিকা চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদনের বিরোধিতা করেন অর্জুন সিংহের আইনজীবী রাকেশ সিং। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তদন্তের প্রয়োজনে আবারও তিনি দেখা করবেন। কিন্তু বিচারক গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। এই রায়ের পরে আদালত চত্বরে রীতিমতো চাঞ্চল্য পড়ে যায়।
অবশ্য অর্জুন সিং বর্তমানে রাজ্যের বাইরে আছেন। এর আগে ওই কেসে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এদিন এক সাক্ষীর বয়ান নেওয়া হয়েছে।। অর্জুন সিংকে তাঁর বাড়ি মজদুর ভবনে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন জগদ্দল থানার আইসি মধুসূদন মন্ডল। এখন দেখার পুলিস ঠিক কী ব্যবস্থা নেয়। বিজেপি নেতা প্রিয়াঙ্গু পাণ্ডে সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, আসলে রামনবমীর মিছিলে যাতে অর্জুন সিং থাকতে না পারেন, তার জন্যই এটা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে অর্জুন সিং টেলিফোনে বলেন, আমি ইতিমধ্যে হাইকোর্টে দ্বারস্থ হয়েছি। মঙ্গলবারই শুনানি হয়েছে। এর মধ্যে কী করে বারাকপুর আদালতে এই রায় ঘোষণা হল, আমি বুঝতে পারছি না! আমার বিরুদ্ধে এত সক্রিয়, অথচ স্থানীয় কাউন্সিলারের ছেলে নমিত সিং-এর বিরুদ্ধে স্বত:প্রণোদিত এফআইআর হলেও, কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিস। বুধবার এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দরবার করব। বিশৃঙ্খলার সেই মুহূর্ত। -ফাইল চিত্র।