


মুম্বই: সাফল্য-ব্যর্থতা যে কোনও ক্রীড়াবিদের জীবনের সঙ্গী। তবে ব্যর্থ হলে হতাশায় ভরে ওঠে মন। অনেকেই তখন ছেড়ে দিতে চান খেলা। লায়োনেল মেসি যেমন অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেওছিলেন ২০১৬ সালে। পরে তা ভেঙে ফিরে আসেন। ২০২২ সালে তিনি জেতেন বিশ্বকাপও। শচীন তেন্ডুলকরের কাহিনিও অনেকটা তেমনই। ২০০৭ সালে ওডিআই বিশ্বকাপে ভারতের গ্রুপ পর্বেই ছিটকে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি অবসরের কথা ভেবেছিলেন। প্রকাশ্যে তা যদিও ঘোষণা করেননি। এমন সময়ে ভিভ রিচার্ডসের একটা ফোন কলই পাল্টে দেয় তাঁর ভাবনা। দাদা অজিত তেন্ডুলকরও বোঝান তাঁকে। অবসরের চিন্তা ঝেড়ে ফেলেন তিনি। আর ২০১১ সালে মাস্টার ব্লাস্টারের হাতেই ওঠে বিশ্বকাপ।
শনিবার, ওয়াংখেড়েতে তাঁর নামাঙ্কিত বোর্ড রুমের উদ্বোধন করতে এসে সেই ঘটনাই শোনালেন শচীন। তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে বিশ্বকাপে খেলে ফেরার পর মাথায় অনেক রকম ভাবনা এসেছিল। ভাবছিলাম, সরে দাঁড়ানোর এটাই সঠিক সময় কিনা, তা নিয়েও। তখন দাদা বলে, ‘‘২০১১ সালে ওয়াংখেড়েতে হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল এই ট্রফি হাতে ভিকট্রি ল্যাপ নিতে কেমন লাগবে ভাবতে পারছ?’’ সেই কথাতেই কেটে যায় মনের অন্ধকার। নতুন করে উদ্দীপ্ত হই। পরের চার বছরে একটাই লক্ষ্য ছিল—বিশ্বকাপ।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০০৭ থেকে ২০১১ সালই সম্ভবত আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পর্ব। আবার ওটাই সেরা মঞ্চও। অসাধারণ একটা সফর ছিল সেই সময়টা।’
কঠিন সেই সময়ে ভিভের অবদানের কথাও অতীতে মেনেছিলেন শচীন। বলেছিলেন, ‘২০০৭ সালে ভারতীয় ক্রিকেটের চেহারা মোটেই স্বাস্থ্যকর ছিল না। পরিবর্তনের দরকার ছিল। মনে হয়েছিল, পরিবর্তন না হলে আমার পক্ষে খেলা সম্ভব নয়। আমি প্রায় ৯০ শতাংশ অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম। সেই সময় দাদা ছাড়াও ভিভের ফোন কল বড় ভূমিকা নিয়েছিল। প্রায় ৪৫ মিনিট ফোনে কথা হয়েছিল। আমার ব্যাটিং হিরো বলেছিল, ‘‘অনেক ক্রিকেট অবশিষ্ট রয়েছে তোমার মধ্যে।’’ সেই মুহূর্ত থেকেই ইতিবাচক ভাবনা ঘিরে ধরে। পরবর্তী সময়ে পারফরম্যান্সে উন্নতিও ঘটে।’ অনেকেই মনে করছেন, পরিবেশ খারাপ বলতে কোচ গ্রেগ চ্যাপেলের দিকেই আঙুল তুলেছেন তেন্ডুলকর।
ঘটনা হল, ২০১১ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে দ্বিতীয়বার ওডিআই ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন হয় ‘মেন ইন ব্লু’। ভিকট্রি ল্যাপের সময় ট্রফি হাতে মাস্টার ব্লাস্টার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে অধরা মাধুরী স্পর্শ করতে মরিয়া ছিলেন তিনি। ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা মাথায় রেখেই ‘এসআরটি ১০০’র পরিকল্পনা করেছে মুম্বই ক্রিকেট সংস্থা। এদিনের অনুষ্ঠানে বোর্ড সভাপতি রজার বিন্নি ও অন্যান্য কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এর আগে রোহিত শর্মার নামে বিশেষ স্ট্যান্ড ও সানিকে সম্মান জানিয়ে ‘১০০০০ গাভাসকর’ নামের বোর্ডরুমের উদ্বোধনও হয়েছিল ওয়াংখেড়েতে।