


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আর কোনও এক্সপেরিমেন্ট নয়। এবার থেকে আর কোনও ল্যাটারাল এন্ট্রি নয়। অর্থাৎ প্রত্যক্ষভাবে সঙ্ঘের সঙ্গে দীর্ঘকালীন সম্পর্ক নেই, এরকম ব্যক্ত্বিকে সাংবিধানিক অথবা রাজনৈতিক নীতি নির্ধারণকারী গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া যাবে না। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ বিজেপি নেতৃত্বকে এমনই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। আর সেই নির্দেশিকার সূত্রপাত হল উপরাষ্ট্রপতি পদে। সব জল্পনা উড়িয়ে সঙ্ঘের দীর্ঘদিনের কর্মী এবং ভারতীয় জনসংঘের অন্যতম সদস্য সি পি রাধাকৃষ্ণনকে প্রার্থী করা। রাজ্যপাল আরও অনেক আছেন। কমবেশি অনেকেই সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ। কিন্তু রাধাকৃষ্ণন সঙ্ঘের পুরনো লোক। নিছক তামিল অস্মিতাকে সন্তুষ্ট করে আগামী বছরের ভোট জয়ই এক্ষত্রে একমাত্র বিবেচ্য হয়নি। সেটা হলে প্রার্থী ঠিক করতে এত সময় লাগত না। দলের সভাপতির মতোই উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী নিয়েও চলছিল মোদি-শাহ বনাম সঙ্ঘের টানাপোড়েন। জগদীপ ধনকারকে আচমকা এত বড় একটি পদে নিয়ে আসা এবং তারপর এভাবে মাঝপথে ইস্তফা দিয়ে সরকার ও দলকে প্রবল বিব্রত করার ঘটনা সঙ্ঘ ভালো চোখে দেখেনি। তাদের কোনও সদস্য এরকম শৃঙ্খলাভঙ্গ করত না বলেই তারা মনে করছে। তাই আর কোনও পরীক্ষা নিরীক্ষার দরকার নেই। আদি সঙ্ঘ ও আদি বিজেপির যৌথ ঐতিহ্যকে অগ্রাধিকার দিতেই রাধাকৃষ্ণনকে এই পদের জন্য বাছাই করা হয়েছে।
উগ্র নয়, বাজপেয়ির ধাঁচে সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলার জন্য পরিচিত রাধাকৃষ্ণনকে কোয়েম্বাটোরের বাজপেয়ি বলা হয়। আজীবন সঙ্ঘের নির্দেশই তিনি পালন করেছেন। এতদিনেও যে দলের সভাপতি মনোনীত হয়নি, তার কারণও এক। মোদি-শাহের অনুগামী নন, সঙ্ঘ চাইছে তাদের আশীর্বাদ ধন্যই কেউ বসুক বিজেপি সভাপতির চেয়ারে। মোদির ৭৫ বছর বয়স হয়ে যাচ্ছে। তিনি অবসর গ্রহণ না করলেও তাঁর দাপট ক্রমেই কমবে একথা অনস্বীকার্য। কিন্তু তাঁর মাপের কোনও নেতা নেই যিনি দলকে কঠোর অনুশাসনে বেঁধে রাখতে সক্ষম। তাই আগে থেকেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে চাইছে সঙ্ঘ।