


সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দুনিয়ায় সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া! কেন? কারণ, এআই চিপসের ৮০ শতাংশ মার্কেট শেয়ার তাদের দখলে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ডেটা সেন্টারগুলিতে সবথেকে বেশি ব্যবহৃত হয় এনভিডিয়া চিপস। আবার মাইক্রোসফট ছাড়াও এআই সংক্রান্ত যে-কোনো সভা সমাবেশ সেমিনার অসম্পূর্ণ। কারণ, ওপেনএআই সহ এই জগতে সবথেকে বেশি লগ্নি এই কোম্পানিরই। দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাধের এআই সম্মেলনে অনুপস্থিত রইলেন এই দুই প্রধান সংস্থার কর্ণধার। কিন্তু কেন? সেটাই এখন জল্পনার সবথেকে বড় কারণ। দু’জনের সংস্থাই অবশ্য ভারতে বিপুল লগ্নির ঘোষণা করেছে এআই সম্মেলনে দাঁড়িয়ে। এনভিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা-সিইও জেনসেন হুয়াং আগে বলেছিলেন আসবেন। কিন্তু পরে জানিয়ে দেন, তিনি আসছেন না। কিন্তু বৃহস্পতিবার মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস সম্মেলনে এলেন না কেন? তাঁর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিছক লগ্নির নয়, সমাজসেবারও। সুতরাং বিল গেটসের না আসা নিয়ে দুনিয়াজুড়ে গুঞ্জন চলছে। প্রধান যে কারণের দিকে অঙ্গুলিহেলন করা হচ্ছে সেটি হল, বিতর্কিত এপস্টাইন ফাইলে তাঁর নাম ও আপত্তিকর ছবির প্রকাশ। ভারতে প্রকাশ্যে সম্মেলনে এলে নানাবিধ প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে সেই সম্ভাবনা এড়াতেই কি তাঁর এই না আসার সিদ্ধান্ত? এদিন গেটস ফাউন্ডেশনের বিবৃতিতে অন্তত তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতকে কমবেশি সন্তুষ্ট থাকতে হল গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটের সিইও সুন্দর পিচাইকে নিয়ে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকও করলেন।
এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদি বক্তৃতা দেন এআই সম্মেলনে। বলেন, ‘এআই নিয়ে দু’রকম মনোভাবের মানুষ আছে। একটি অংশের মধ্যে আছে ভয়। আর অন্য অংশের মধ্যে আছে সৌভাগ্যের আশা। ভারত বিশ্বাস করে ভাগ্যকে। ভালো ও খারাপের মধ্যে কাকে বেছে নেব, সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে।’ তিনি উদাহরণ দেন জিপিএস প্রযুক্তির। বলেন, জিপিএস আমাদের দিশা দেখায় যে কোন রাস্তায় যেতে হবে। কিন্তু কোন পথে যাব সেটা আমাদেরই ঠিক করতে হয়। বিরোধীদের দাবি, জিপিএস দেখে মানুষ যাতায়াত করে রাস্তা চেনার জন্য। মানুষ যদি নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে তাহলে জিপিএস রাখবে কেন সামনে?
চোখ ধাঁধানো এআই সামিট চতুর্থ দিনে পড়েছে। যদিও এই চারদিনে বিনিয়োগের ঘোষণা, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের চমক ইত্যাদিকে ছাপিয়ে গিয়েছে একের পর এক বিতর্ক। এদিনও তার অন্যথা হল না। নিজস্ব স্টাইলেই এদিন মোদি ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ক-কর্পোরেট কর্তারা পরস্পরের হাত ধরে ফোটোসেশন করেন। আর ঠিক তখনই দেখা গেল, এআই জদতের দুই প্রধান প্রতিপক্ষ ওপেন এআইয়ের স্যাম অল্টম্যান এবং অ্যানথ্রোপিকের ড্যারিও আমোডেই একে অন্যের হাত ধরে ছবি তুলতে রাজি হলেন না। পরে স্যাম এও জানালেন, স্টেজে কী হচ্ছে বুঝতেই পারছিলাম না!