পাটনা: বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বিজয়কুমার সিনহার দুটি ভোটার কার্ড রয়েছে বলে অভিযোগ তুললেন তেজস্বী যাদব। রবিবার আরজেডি নেতা দাবি করেছেন, প্রত্যেক ভোটারের নামে একটিই এপিক নম্বর থাকার কথা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বিজয়ের নামে দুটি বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে আলাদা এপিক নম্বর সম্বলিত ভোটার কার্ড রয়েছে। আর বিষয়টি সামনে আসার পরেই ফের বিহারের স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)-এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তেজস্বী। এদিন সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সকলের এই জালিয়াতির কথা জানা উচিত। জানুয়ারির তালিকা অনুযায়ী, উনি (বিজয়কুমার) হলফনামায় বাঁকিপুরের এপিক নম্বর উল্লেখ করেছিলেন। বিএলও যখন লখিসরাইয়ে গিয়েছেন, সেখানে উনি নথি জমা দিয়েছেন। আবার বাঁকিপুরে বিএলও যখন নথি পরীক্ষা করতে গিয়েছেন, সেখানেও তিনি নথি জমা দিয়েছেন। তাই দু’জায়গাতেই নাম তালিকায় উঠেছে।’
তেজস্বীর বক্তব্য, ‘শুধু দুটি আলাদা ভোটার কার্ডই নয়, উপমুখ্যমন্ত্রীর বয়সও দু’জায়গায় দু’রকম। বিজয়ের বাঁকিপুরের ভোটার কার্ডে বয়স ৬০। আবার লখিসরাইয়ের ভোটার তালিকা অনুযায়ী, বিজয়ের বয়স ৫৭। এক্ষেত্রে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। হয় তিনি দুটি ভোটার কার্ডের জন্য নথিপত্র জমা দিয়ে জালিয়াতি করেছেন। নাহলে, পুরো স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়াটাই একটা জালিয়াতি।’ যদিও উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দাবি, তিনি ইতিমধ্যেই একটি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তেজস্বীর অভিযোগ ভিত্তিহীন। এদিকে, জোড়া ভোটার কার্ড ইস্যুতে বিজয়কে নোটিস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁকে ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা পাঁচটার মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।
কিছুদিন আগেই তেজস্বী দাবি করেন, এসআইআরের খসড়া তালিকায় তাঁর নাম নেই। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই কমিশন জানায়, তেজস্বীর নাম খসড়া তালিকায় রয়েছে। যদিও তেজস্বী যে এপিক নম্বর দেখিয়েছিলেন আর কমিশনের দেওয়া তালিকায় তেজস্বীর এপিক নম্বর ছিল আলাদা। কমিশনের একটি সূত্র দাবি করে, সম্ভবত তেজস্বীর দুটি আলাদা ভোটার কার্ড রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার কথাও বলা হয়। এবার তেজস্বীই উপমুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুটি ভোটার কার্ড থাকার অভিযোগ তুললেন।