


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, মালদহ এবং সংবাদদাতা, তুফানগঞ্জ: বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গাপুজোর মরশুমে ফের সক্রিয় হয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ‘স্পনসর্ড’ ভারতীয় জাল নোট কারবারের বাংলাদেশি সিন্ডিকেট। শেখ হাসিনা উৎখাতের পর বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জে ভারতীয় জাল নোট কারবারের মাথাদের তৎপরতা ব্যাপক আকারে বেড়ে গিয়েছে বলে এপারের গোয়েন্দারা খবর পেয়েছেন। উৎসবের কেনাকাটার ভিড়ে কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকার জাল নোট গোটা এপারে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশের ওই সিন্ডিকেট। তাদের নিশানায় রয়েছে এ রাজ্যও। সেই চেষ্টাও শুরু করেছে ইউনুসের দেশের পাচারকারীরা। তবে সতর্ক রয়েছেন এপারের গোয়েন্দারাও। সেই সতর্কতার জেরেই উত্তরবঙ্গের মালদহ এবং কোচবিহারে জাল নোট পাচারের বড়সড় দুই প্রচেষ্টা ভেস্তে দিতে সক্ষম হয়েছেন গোয়েন্দারা। মালদহ জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত মহদীপুর থেকে মঙ্গলবার ২১ লক্ষ টাকার জাল নোট সহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছেন বেঙ্গল এসটিএফের আধিকারিকরা। এছাড়াও সোমবার রাতে কোচবিহারের তুফানগঞ্জ থানার পুলিস গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অন্দরান ফুলবাড়ি-১ পঞ্চায়েতের চামটা মোড় থেকে ৯৬ হাজার টাকার জাল নোট সহ মোটরবাইক চালক এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিস। পুজোর মুখে খোলা বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার এই চক্রান্ত ঘিরে উদ্বেগে রয়েছে ব্যবসায়ী মহল।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহ এবং কোচবিহার দুটি ক্ষেত্রেই উদ্ধার হয়েছে ৫০০ টাকার জাল নোট। ওই সূত্রটি জানিয়েছে, তুফানগঞ্জে জাল নোট সমেত ধৃত যুবক আউয়াল হোসেনের বাড়ি বাংলাদেশের রংপুর সীমান্ত সংলগ্ন চর বালাভূত গ্রামে। সম্ভবত সেখানকার অরক্ষিত সীমান্ত দিয়েই জাল নোট এসেছে বাংলাদেশ থেকে। তবে সবচেয়ে ‘অ্যালার্মিং’ মালদহের মহদীপুর থেকে উদ্ধার হওয়ার জাল নোট। কারণ ২১ লক্ষ টাকা জাল নোটের গোটা কনসাইনমেন্টটাই এসেছে ওপারের চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও সদর মডেল থানা এলাকায় থাকা ‘স্ট্যাক ইয়ার্ড’ থেকে। গোয়েন্দারা বলছেন, হাসিনা সরকার পতনের পর থেকে কিছুদিন চুপচাপ থাকলেও, গত দু’মাস ধরে মালদহের কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগর সীমান্ত লাগোয়া ওপারের শিবগঞ্জ থানার শাহাবাজপুর, পারদিলালপুর, কানসাট, বিনোদপুর, খোন্দা এবং চাঁপাই নবাবগঞ্জ শহরের নেয়ামতনগর, গোপালপুর ও রসুলপুরের মতো এলাকায় জাল নোট কারবার গতি নিয়েছে। ওই সমস্ত এলাকার বিভিন্ন স্ট্যাক ইয়ার্ডে (গৃহস্থ বাড়ি) কোথাও ২৫ লাখ, কোথাও ৫০ লাখ আবার কোথাও দু’তিন কোটি টাকার ভারতীয় জাল নোট মজুত করা হয়েছে। সেরকমই এক স্ট্যাক ইয়ার্ড থেকে জাল নোট পাঠানো হয়েছিল মহদীপুরে। জাল নোটের সেই কনসাইনমেন্ট সমেত গ্রেপ্তার করা হয় বৈষ্ণবনগরের মাসুদ ওরফে হজরত বিলাল এবং কালিয়াচকের মহব্বতপুরের তারিকুলকে।
এই বিষয়ে গোয়েন্দারা বলছেন, ওপারের স্ট্যাক ইয়ার্ডে মজুত করা ভারতীয় জাল নোটের ৯৫ শতাংশই ৫০০ টাকার। এই নোটগুলির বড়সড় অংশ যেমন পাকিস্তানের করাচি ও কতরি শহরে ছাপা হয়ে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (পিয়া) ফ্লাইটে কার্গো কন্টেনারে ডিপ্লোমেটিক ট্যাগ লাগিয়ে ঢাকায় আসছে। তারপর সেখান থেকে চলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া চাঁপাই নবাবগঞ্জে।