


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে কাটল জট। পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনেই ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় হবে ভারত-পাক মহারণ। কিন্তু বয়কট ইস্যুতে শেষ পর্যন্ত জিতল কোন পক্ষ? এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
গ্লাসের অর্ধেকটা ফাঁকা, অর্ধেকটা ভরতির মতো ব্যাপার। সব্বাই নিজের ঢাক পেটাতেই ব্যস্ত। তবে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া নিয়ে পাকিস্তান যেভাবে আইসিসি’কে ব্ল্যাকমেল করে দাবি-দাওয়া আদায় করল, তা নজিরবিহীন। ক্রিকেট পণ্ডিতদের একাংশের মতে, এত দুর্বল আইসিসি চেয়ারম্যান আগে কখনও দেখা যায়নি। জয় শাহ পুরোপুরি ব্যর্থ। এটা বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার বড় হার। আগামী দিনে ইংল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়াও ফোঁস করবে। কূটনৈতিক দিক থেকেও বিশাল ধাক্কা ভারতের কাছে। কারণ, বয়কট ইস্যুতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান চলে এল আরও কাছে।
বাইশ গজে ভারত-পাক ম্যাচ তো শুধু ক্রিকেটে আবদ্ধ থাকে না, তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে জড়িয়ে থাকে রাজনীতি। এবার শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে টি-২০ বিশ্বকাপ আয়োজন করছে ভারত। পিসিবি চেয়ারম্যান নাকভি প্রথম থেকেই সুযোগ খুঁজছিলেন, কীভাবে এশিয়া কাপের বদলা নেবেন। প্রথমে বাংলাদেশকে দিয়ে জলঘোলার চেষ্টা করেন তিনি। সূত্রপাত আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়া। এটাকেই হাতিয়ার করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দেশে সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রবল ভারত বিরোধিতায় নামে। তারা দাবি জানায়, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপদ নয় ভারতে। তাই ম্যাচ সরানো হোক শ্রীলঙ্কায়। কিন্তু আইসিসি তা মানেনি। উলটে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরিবর্তে সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড।
এই পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। মনে হয়েছিল, সঠিক অবস্থানই নিয়েছে আইসিসি। বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়াই শুধু নয়, বাংলাদেশের উপর নির্বাসন এবং আর্থিক জরিমানা চাপার প্রবল সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির একটা চালেই বদলে যায় পরিস্থিতি। পাক সরকার জানায়, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারতের বিরুদ্ধে খেলবেন না বাবররা।
এই খবর সামনে আসার পর গভীর রাতেই প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল আইসিসি। দেওয়া হয়েছিল হুমকি। দাওয়াই কাজে লাগেনি। বরং পাকিস্তান জানায়, নক-আউটেও তারা ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না। পিসিবি’র আক্রমণে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। জয় শাহরা বুঝতে পারেন, পাকিস্তান আর বাংলাদেশ এক নয়। ভারত-পাক ম্যাচ না হলে টি-২০ বিশ্বকাপ হয়ে পড়ত জৌলুসহীন। সেই সঙ্গে বিপুল আর্থিক ক্ষতি। চাপ বাড়াচ্ছিল সম্প্রচারকারী চ্যানেলও। তাই সন্ধিই ছিল একমাত্র পথ।
মাঠের লড়াইয়ে ভারতের সঙ্গে এঁটে উঠতে না পারলেও, কূটনীতিতে কিন্তু নাকভি নাকানিচোবানি খাওয়ালেন। আইসিসি’তে এতদিন পাকিস্তান ছিল একা। এখন পাশে পেল বাংলাদেশকে। বন্ধুত্বের প্রতিদান হিসাবে আইসিসি’র থেকে নাকভি এই প্রতিশ্রুতিও আদায় করলেন যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপর বিশ্বকাপে না খেলার জন্য কড়া পদেক্ষপ নেওয়া যাবে না। লিখিতভাবে তা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে। সূত্রের খবর, পাকিস্তান নাকি আইসিসি’র লভ্যাংশ থেকে আরও বেশি অর্থ দাবি করেছে। সেটাও মেনে নেওয়া হতে পারে। তাছাড়া বাংলাদেশকে পরে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে। সোমবার রাতে লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে পিসিবি চেয়ারম্যান, আইসিসি’র প্রতিনিধি এবং বিসিবি প্রেসিডেন্টের বৈঠকের মূল নির্যাস এটাই। শর্তসাপেক্ষে পাকিস্তান কলম্বোয় ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি হল। যা আইসিসি’র পক্ষে মোটেও ভালো বিজ্ঞাপন নয়।