সংবাদদাতা, পতিরাম: বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে এক্সরে বিভাগে পর্যাপ্ত টেকনিশিয়ানের অভাব। ওই বিভাগে বর্তমানে প্রয়োজন ১২ জন টেকনিশিয়ান। কিন্তু রয়েছেন মাত্র ছ’জন টেকনিশিয়ান। আগে থেকেই ওই বিভাগে টেকনিশানের সঙ্কট ছিল। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সম্প্রতি দু’জন টেকনিশিয়ান অন্যত্র বদলি হতেই আরও নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসা রোগীদের সহজে এক্সরে করা যাচ্ছে না। বহির্বিভাগের রোগীদের তারিখ লিখে দিতে হচ্ছে। রোজই এক্সরে করতে এসেও ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা। যা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে হাসপাতালে।
বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দু বিকাশ বাগ বলেন, হাসপাতালে এক্সরে বিভাগে ১২ জন টেকনিশিয়ান থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে সেখানে ছ’জন টেকনিশিয়ান রয়েছেন। দু’জন বদলি হয়ে যাওয়ায় একটু সমস্যা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্যদপ্তরকে জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, বালুরঘাট হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২০০’র বেশি এক্সরে হয়। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের জন্য তো বটেই, বহির্বিবিভাগ থেকে আসা রোগীদেরও ব্যাপক চাপ থাকে। কিন্তু প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে টেকনিশিয়ানের অভাবে এক্সরে করতে গিয়ে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পর্যাপ্ত টেকনিশিয়ান না থাকায় এখন ঘরে ১৩০ জন করে রোগীর এক্সরে করা হচ্ছে। ফলে অনেক রোগীকেই ঘুরে যেতে হচ্ছে। অনেককে আবার তারিখ লিখে দেওয়া হচ্ছে। সেই অনুযায়ী এসে রোগীরা এক্সরে করে যাচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, ছ’জন টেকনিশিয়ান দিয়ে ওই এক্সরে করানো সম্ভব হচ্ছে না। রোস্টার ডিউটির ফলে সমস্যা হচ্ছে। এদিকে ইসিজিতেও কর্মী সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ওই বিভাগে মাত্র চার জন কর্মী রয়েছেন। কিন্তু প্রয়োজন ছ’জন কর্মী। ফলে রাতের বেলায় জরুরি ক্ষেত্রে টেকনিশিয়ান পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে হাসপাতালের নার্সরাই ওই কাজ করছে।
এবিষয়ে বালুরঘাটের বাসিন্দা স্বপন দাস বলেন, আমি কিছুদিন আগে একটি দুর্ঘটনায় চোট পেয়েছিলাম। বহির্বিবিভাগে দেখানোর পরে এক্সরে করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে বলা হয় এক্সরে হবে না। আমাকে দু’দিন পর তারিখ লিখে দেওয়া হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে আমি বাইরে থেকে এক্সরে করাই। সরকারি হাসপাতালেই এমন অবস্থা হলে আমরা কোথায় যাব?
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় মেডিক্যাল কলেজ নেই। তাই বালুরঘাট জেলা হাসপাতালই একমাত্র ভরসা। এই হাসপাতলে প্রতিদিন এক্সরে বিভাগে ব্যাপক রোগীদের চাপ থাকে। তাই এক্সরে করতে না পেরে অনেকেই ঘুরে যাচ্ছে। এদিকে এক্সরে মেশিনও মাঝেমধ্যেই বিকল হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। তবে বর্তমানে দু’টি সচল থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে ফিরতে হচ্ছে রোগীদের। ফাইল চিত্র।