সংবাদদাতা, বারুইপুর: জয়নগরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে। বেলেদুর্গানগর অঞ্চলের সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়িতে ও দোকানে হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ। তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকেও মারধর করেছে। এছাড়া বোমাবাজি করে জমি বিক্রির ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, বেলেদুর্গানগর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আব্দুল আলিম দর্জির নেতৃত্বে এই হামলা চলে। প্রধান রীতা নস্করের স্বামী সুশীল নস্করের মদতও ছিল এতে। জানা গিয়েছে, অঞ্চল সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সদস্য কালীপদ সর্দার জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডলের অনুগামী বলে পরিচিত। আর উপপ্রধান ও প্রধান জয়নগরের বিধায়ক বিশ্বনাথ দাসের অনুগামী। ঘটনাটি ঘটেছে জয়নগরের বকুলতলা থানার বেলেদুর্গানগর পঞ্চায়েতের পূর্ব রঘুনাথপুর এলাকায়। অঞ্চল সভাপতি এই ঘটনায় বকুলতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এই খবর পেয়ে শনিবার জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল কালীপদ সর্দারের বাড়ি যান। সাংসদ বলেন, কালীপদ পুরানো তৃণমূল কর্মী। ওঁর বাড়িতে যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে, তা নিন্দনীয়। যদিও, উপপ্রধান আব্দুল আলিম দর্জি বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। আর কালীপদ সর্দার অঞ্চল সভাপতি নয়। শুকদেব মণ্ডল অঞ্চল সভাপতি।
এনিয়ে জেলা পরিষদ সদস্য জিয়াউল হক বলেন, পঞ্চায়েত সদস্য কালীপদ সর্দারই অঞ্চল সভাপতি। শুকদেব মণ্ডল ওঁদের মনগড়া সভাপতি। যেভাবে কালীপদর বাড়িতে হামলা, বোমাবাজি হয়েছে তা শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। এই ব্যাপারে বারুইপুর পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, উভয়পক্ষ থেকেই অভিযোগ করা হয়েছে।
এই হামলা প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত সদস্য তথা অঞ্চল সভাপতি কালীপদ সর্দার বলেন, আমি শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ি ছিলাম না। সেই সময় উপপ্রধানের নেতৃত্বে বোমার ব্যাগ নিয়ে হামলা চালানো হয় বাড়িতে। দোকান, ঘরে ভাঙচুর চলে। বোমাবাজি করা হয়। স্ত্রী, ছেলেকে ব্যাপক মারধর করা হয়। জমি বিক্রি করে বাড়িতে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা রেখেছিলাম। সেই টাকাও নিয়ে গিয়েছে ওরা। কেন এই আক্রমণ? তিনি বলেন, পঞ্চায়েতে ঘর তৈরির জন্য টাকা নিচ্ছিলেন উপপ্রধান। কিন্তু আমার বুথে তা করতে পারেননি। আমি এই নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলাম ব্লক অফিসে। তাই এই হামলা।