


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গোটা দেশই এখন উৎসবের আলোয় মেতেছে। নবরাত্রি এবং শারদোৎসবের ছোঁয়ায় রঙিন প্রত্যেকে। আর রবিবার দুবাইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারত এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হলে তো কথাই নেই। সোনায় সোহাগা। সেই উজ্জ্বল মুহূর্তের অপেক্ষায় আসমুদ্রহিমাচল। টিম ইন্ডিয়াকে নিয়ে দেশবাসীর প্রত্যাশা অনেক। হবে না’ই বা কেন? চলতি এশিয়া কাপেই তো দু-দু’বার ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর তীব্রতা টের পেয়েছে ওয়াঘা-পারের দেশ। গ্রুপ লিগে ৭ উইকেটে চূর্ণ হয়েছে পাক-ব্রিগেড। সুপার ফোরের আগে সলমন আগারা উৎসাহ দেখিয়েছিলেন বটে, কিন্তু যথারীতি ম্যাচের দিন তা চুপসে গিয়েছে। ৬ উইকেটে হারের পর শাহিন শাহ আফ্রিদি-ফখর জামানরা বুঝতে পেরেছেন, ভারতের বিরুদ্ধে খেললে হারা ছাড়া গতি নেই। এটাই ভবিতব্য। রবিবার জয়ের হ্যাটট্রিক স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কারণ, ধারে ও ভারে সূর্যশেখর যাদবের দল বিপক্ষের থেকে কয়েক আলোকবর্ষ এগিয়ে।
চলতি এশিয়া কাপে দুরন্ত ফর্মে রয়েছে ভারত। ছ’টি ম্যাচের প্রত্যেকটিতেই জিতেছে গৌতম গম্ভীর-ব্রিগেড। শুক্রবার নিয়মরক্ষার ম্যাচে শ্রীলঙ্কা অবশ্য যথেষ্ট বেগ দেয় টিম ইন্ডিয়াকে। ফাইনালের আগে যার প্রয়োজনও ছিল। নামমাত্র আত্মতুষ্টি বিসর্জন দিয়ে রবিবার দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে নামবেন যশপ্রীত বুমরাহ-তিলক ভার্মারা। উল্টোদিকে পাকিস্তানকে দেখলেই ভারতীয় ক্রিকেটাররা তেলেবেগুনে জ্বলে উঠছেন। ন্যূনতম সৌজন্য দেখানো তো দূর অস্ত, বাইশ গজে আবরার-হ্যারিস রউফদের পরপর তিনবার হারিয়ে ইতিহাসে নাম লেখাতে তৈরি সূর্যরা। এটা ঠিক যে, হারতে হারতে এখন হারান হয়ে গিয়েছে পাকিস্তান।
রবিবার ফের ঝড় তুলতে প্রস্তুত অভিষেক শর্মা। বাঁ হাতি ওপেনারের বিধ্বংসী ব্যাটিং রাতের ঘুম কেড়েছে আফ্রিদিদের। পাওয়ার প্লে হোক বা মিডল ওভার— শর্মাজির হাত থেকে নিস্তার নেই। তাঁকে সঙ্গত দিতে রয়েছেন শুভমান গিল। বোলিংয়েও পাকিস্তানকে চোখ বন্ধ করে পিছনে ফেলবে ভারত। অভিজ্ঞ বুমরাহ, প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন শিবম দুবের সঙ্গে হার্দিক পান্ডিয়া পেস বিভাগের দায়িত্বে। আর স্পিনের ফাঁদ পেতে বসে রয়েছেন কুলদীপ, বরুণ চক্রবর্তী, অক্ষর।
এশিয়া কাপের ৪১ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ফাইনালে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা মেলে ধরার রসদ নেই মাইক হেসনের দলে। ইমরান খান-ওয়াসিম আক্রাম-জাভেদ মিয়াঁদাদদের উত্তরসূরিরা ভারতের বিপক্ষে কেমন যেন মিইয়ে থাকেন। বাবর আজম ও মহম্মদ রিজওয়ানের মতো ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ায় পিসিবি’র মুণ্ডপাতে ব্যস্ত প্রাক্তনীরা। আসিফ ইকবাল তো এদিন সাফ বলেই দিলেন, ‘ভারতই হট ফেভারিট। পাকিস্তান জিতলে অঘটন ঘটবে।’
রবিবার ষষ্ঠী। জনপ্লাবনে ভাসবে কলকাতা। সন্ধ্যায়-রাতে হপিংয়ের মধ্যেই মুঠোফোনে চোখ থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের। মায়ের বোধনের দিনেই পাকিস্তানের বিসর্জন চান তাঁরা। তাহলেই পুজোর আনন্দ বেড়ে যাবে কয়েক গুণ।